• কামারহাটিতে জোড়াফুল ফোটানোর ‘পুরস্কার’? মদনকে বড় দায়িত্ব দিল তৃণমূল
    এই সময় | ২৪ মে ২০২৬
  • ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। তবে নিজের গড় ধরে রেখেছেন মদন মিত্র। জিতেছেন কামারহাটি থেকে। শুধু তাই নয়, একাধিক লাইভ করে দুঃসময়েও দলের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে গিয়েছেন তিনি। অবশেষে যেন তারই পুরস্কার মিলল। শনিবার মদনকে দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করল তৃণমূল।

    দমদম সাংগঠনিক জেলা বলে তৃণমূলে কিছু ছিল না। ব্যারাকপুর-দমদম সাংগঠনিক জেলার অধীনেই ছিল দমদম লোকসভা এলাকা। এ বার আলাদা করে দমদম সাংগঠনিক জেলা গঠন করেছে তৃণমূল। আর তার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে মদনের হাতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোড়াফুল শিবির যে এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে, এই সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট।

    এক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পরিবহণ এবং ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন মদন। সেটা ২০১১ সাল। তবে পরে আর মন্ত্রীত্বের শিকে ছেঁড়েনি। এমনকী সাংগঠনিক দায়িত্বও পাননি খুব একটা। তবে এই নিয়ে কখনও কোনও অভিযোগ করেননি মদন। বরং দল তাঁকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে, হাসি মুখে সামলেছেন। নিজেকে বরাবর ‘মমতার পুরোনো দিনের সৈনিক’ বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    মদনকে ‘কালারফুল বয়’ বলেছিলেন মমতা নিজেই। খুব সম্ভবত সেটা তাঁর বর্ণিল স্বভাব, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব উপস্থিতি আর অনন্য ফ্যাশন সেন্সের জন্যই। তাঁর ‘ও লাভলি’ সংলাপ তো এখন গোটা রাজ্যে বিখ্যাত। তবে তৃণমূলে মদনের ভূমিকা ঠিক কী, সেই নিয়ে গত পাঁচ বছরে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু যাই হোক, মদন কামারহাটি ছাড়েননি কোনও দিন। মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিজেপির ভরা বাজারে কামারহাটি ধরে রাখতে পারায় তাঁর উপরে দলের আস্থা বেড়েছে। তাছাড়া এই এলাকাকে হাতের তালুর মতো চেনেন মদন। সর্ব স্তরে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। সেটাকেও তৃণমূল কাজে লাগাতে চাইছে বলে মনে করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পরিবর্তনের সময়ে কামারহাটি থেকে জিতেছিলেন মদন। ২০১৬-য় হেরে যান। সেই সময়ে সারদা মামলায় জেল হেফাজতে ছিলেন তিনি। ২০২১-এ ফের এই কেন্দ্র থেকে জেতেন। এ বারও বিজেপির ব্যাপক সাফল্যের মাঝে কামারহাটিতে জোড়াফুল ফুটিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)