তর্কাতর্কি চলছিল। সেখান থেকে আচমকাই ভাঙচুর। মুহূর্তের মধ্যে বন্দিদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গোটা কাপুরথালা সংশোধনাগার। শনিবার পাঞ্জাবের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কয়েক জন বন্দি সংশোধনাগারে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেন বলেও অভিযোগ। তবে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই জানিয়েছে পুলিশ। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার পরেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ। কোনও একটা বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি চলছিল। সেখান থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন কয়েদিরা। মুহূর্তের মধ্যে বিচারাধীন বন্দি আর আসামীদের দু’টি গোষ্ঠী তৈরি হয়ে যায়। শুরু হয় ভাঙচুর। অভিযোগ, হাতের সামনে যে যা পান তাই নিয়েই অন্যের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এর মধ্যেই ব্যারাক নম্বর ৪-এর দেওয়াল ভেঙে ফেলেন বন্দিরা। কয়েক জন কেরোসিন জোগাড় করে জেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খবর পাওয়া মাত্র সংশোধনাগার ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কাপুরথালার সিনিয়র সুপারিটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ। একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকতে শুরু করে জেলের ভিতর। তবে সংঘর্ষে ঠিক কত জন আহত হয়েছেন বা কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে কি না, আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। রাতভর জেল চত্বরেই ছিলেন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা।
পরে জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিঙ্গলা বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কী ভাবে এমন ঘটনা ঘটল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ জেল এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই সংঘর্ষের বেশ কিছু ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে একাধিক বন্দিকে। তবে নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়িয়ে কী ভাবে জেলের ভিতরে স্মার্টফোন হাতে পেলেন বন্দিরা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েক জন বন্দির মুখে কাপড় বাঁধা। একটা হাত পিছন দিকে লুকিয়ে রেখেছেন। হাতে কোনও অস্ত্র ছিল বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক বন্দি বলছেন, ‘পুলিশ আমাদের মারধর করেছে। এমনকী গুলিও চালিয়েছে।’ এক কয়েদি গুরুতর জখম হয়েছেন বলেও দাবি করেন কয়েক জন বন্দি। তবে গুলি চালানো নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি প্রশাসন। সংশোধনাগারের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। জেলের নথি এবং ভাইরাল ভিডিয়োগুলিও যাচাই করে দেখছে প্রশাসন।