পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্পে তৈরি কয়েক হাজার বাড়ি, বসবাস করতে নারাজ শ্রমিকরা
বর্তমান | ২৪ মে ২০২৬
ব্রতীন দাস, মাদারিহাট: বাস করতে নারাজ শ্রমিকরা। ফলে ডুয়ার্সে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ‘চা সুন্দরী’র কয়েক হাজার বাড়ি। তৃণমূল সরকারের আমলে জলপাইগুড়ির মাল, নাগরাকাটা, আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট ও কালচিনি সহ বিভিন্ন ব্লকে চা শ্রমিকদের বাড়ি তৈরির জন্য খরচ করা হয় কোটি কোটি টাকা। কিন্তু সেসব বাড়ির বেশিরভাগ তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
শ্রমিকদের বক্তব্য, চা সুন্দরী প্রকল্পে যে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে, তা মানুষের পক্ষে বসবাসের যোগ্য নয়। সুতরাং ওই বাড়িতে থাকতে নারাজ তাঁরা। বাড়ি তৈরির জন্য নতুন করে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ দেওয়া হোক, এই দাবিতে সরব চা শ্রমিকরা।
এদিকে, চা সুন্দরীর বাড়ি তৈরিতে চরম দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গার তোপ, প্রথম পর্যায়ে চা সুন্দরীর বাড়ি তৈরির জন্য ৫ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়। পরে জানতে পারি, সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় বাড়ি পিছু ৬ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু যে বাড়ি হয়েছে তা তৈরিতে দেড় লক্ষ টাকার বেশি লাগতে পারে না। তাহলে বাকি টাকা কোথায় গেল? এনিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকার যাতে তদন্ত করে, সেব্যাপারে দাবি জানানো হবে।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রকাশচিক বরাইকের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। চা শ্রমিকদের ভালোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার চা সুন্দরীর বাড়ি তৈরি করে দেয়। এখন সেখানে যদি চা শ্রমিকরা যেতে না চান, আমাদের কী করার আছে। প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত।
মাদারিহাট ব্লকের ভুটান পাহাড় ঘেঁষা লংকাপাড়া বাগানের ডিবি লাইন, এসবি লাইন ও পাঁচ নম্বর লাইনে গিয়ে দেখা গেল, চা সুন্দরী প্রকল্পে তৈরি হওয়া এক হাজারের বেশি বাড়িতে তালা ঝুলছে। বেশিরভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ ও পানীয়জলের লাইন পৌঁছয়নি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনের তরফে কার্যত জোর করে কয়েকজনকে চা সুন্দরীর বাড়িতে ঢোকানো হয়। তাঁরাই এখন না থাকার মতো করে রয়েছেন।
বাগানের বাসিন্দা গণেশ তামাং, কালু তামাং, রাজেন্দ্রর তামাং বলেন, চা সুন্দরীর যে ঘর তৈরি হয়েছে, তাতে মানুষ বাস করতে পারবেন না। পায়রার খোপের মতো দু’টো ঘর। বাগানে প্রায় সব পরিবারেই কমপক্ষে পাঁচ-ছ’জন সদস্য। তার উপর পোষ্য রয়েছে। কোথায় থাকব? একই অভিযোগ মুজনাই চা বাগানের শ্রমিকদের। তাঁদের দাবি, বাগানের লেবার কোয়ার্টার থেকে অনেক দূরে নদীর ধারে কিংবা হাতির করিডরের কাছে চা সুন্দরীর বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ। নদী থেকে অবৈধভাবে তোলা বালি-পাথর দিয়ে চা সুন্দরীর বাড়ি বানিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
লংকাপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা উদয় লামার তোপ, ১১ বছর ধরে বাগান বন্ধ। পেটের টানে বেশিরভাগই ভুটানে কিংবা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছেন। এখানকার শ্রমিকরা কী চান, তা জানতে না চেয়েই তৃণমূল সরকারের আমলে কলোনির মতো করে চা সুন্দরীর বাড়িগুলি বানানো হয়েছে। সেকারণে ওই বাড়িতে কেউ যেতে চাইছেন না। তাছাড়া কাজের মান অত্যন্ত খারাপ।