নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুর শহরে রাস্তার ধার থেকে ১৯৭টি ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার জর্জ কোর্টের পিছনে বিচারক আবাসনের পাশে রাস্তার উপরে শয়ে শয়ে ভোটার কার্ড পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডাস্টবিনের কাছে ওই সমস্ত এপিক কার্ড দেখে পথচারীরা থানায় খবর দেন। পুলিশ পৌঁছে সিজার লিস্ট তৈরি করে ওই কার্ড উদ্ধার করে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উদ্ধার হওয়া কার্ডের মধ্যে কোনোটি ডিজিটাল, আবার কোনোটি পুরনো ল্যামিনেশন করা। স্থানীয়দের দাবি, সেগুলি আসল ভোটার কার্ডের মতোই মনে হচ্ছে। এমনকি, আশপাশের পাড়ার লোকজনের কিছু এপিক কার্ড সেখানে রয়েছে। খবর পেয়ে লাগোয়া এলাকার মানুষ কার্ড খুঁজতে ভিড় জমায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এমন বেশ কয়েকজনের কার্ড দেখলাম, যাঁদের চিনি। পাশের পাড়ারই বাসিন্দা। কয়েকদিন আগেও এখানেই ১০-১২টি ভোটার কার্ড পড়ে ছিল। এভাবে চেনাপরিচিতদের ভোটার কার্ড পড়ে থাকা তো উদ্বেগের বিষয়।
এদিন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক ভোটার কার্ডের সঙ্গে কয়েকটি তালিকাও উদ্ধার হয়েছে। তাতে তৃণমূলের বিএলএ’র স্বাক্ষর রয়েছে। এমনকি, তৃণমূলের নির্বাচনি প্রচারের লিফলেটও পাওয়া গিয়েছে। এনিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়াই তৃণমূলের সংস্কৃতি। বছরের পর বছর ধরে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নিজেরা ক্ষমতা দখল করে রাখার চেষ্টা করেছে। হয়তো এবারও মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ রুখতে ভোটার কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু, নির্বাচন কমিশনের কড়া মনোভাবে এসমস্ত ভোটারদের হয়ে ফলস ভোট দিতে যাওয়ার সাহস কেউ করেনি। তাই হয়তো এসব কার্ড ফেলে দিয়ে নিজেরা বাঁচার চেষ্টা করছে। আসলে কী ঘটেছে, সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা অশোক দাস বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। কী হয়েছে, তারাই ভালো বলতে পারবে। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল জড়িত নয়।