মোদিকে শুভেন্দুর দেওয়া বঙ্কিমচন্দ্রের চিত্র এঁকেছেন বুদবুদের ধনঞ্জয় চক্রবর্তী
বর্তমান | ২৪ মে ২০২৬
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথম দিল্লি সফরে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আঁকা ছবি তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সেই ছবি ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাংলার রাজনীতিতে এবার বিধানসভা ভোটে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উপহার হিসাবেও বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি বেছে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আনন্দমঠের সৃষ্টিকর্তার এই ছবি বুদবুদের শিল্পী ধনঞ্জয় চক্রবর্তী এঁকেছেন।
ধনঞ্জয়ের ছবি বিশেষ মর্যাদা পাওয়ায় গর্বিত বুদবুদের বাসিন্দারা। বাংলা সাহিত্যের একটি যুগ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। গত বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছিল বঙ্কিমচন্দ্রকে ঘিরে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বন্দে মাতরম গানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ সম্মান জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে উদ্যোগী হয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্কিম দা’ বলে সম্বোধন করায় রে, রে সুর তুলেছিল তৃণমূলের সাংসদরা। তারপর থেকে বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবির বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর সৃষ্টি নিয়ে একে অপরকে বারবার নিশানা করেছেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের কোনো অভিযোগ আদৌ আমল দেয়নি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। তাই সরকার গঠনের পর প্রথমবার দিল্লি সফরে গিয়ে সাহিত্য সম্রাটের এই ছবি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিল্পী ধনঞ্জয় চক্রবর্তী গলসির বুদবুদ এলাকার বাসিন্দা। ধনঞ্জয়বাবুর বাবা মধুসূদন চক্রবর্তীর প্রাক্তন সেনাকর্মী। ধনঞ্জয়বাবুর বেড়ে ওঠা বুদবুদ এলাকায়। পানাগড় সেনা ছাউনির আদর্শ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর বুদবুদ হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ধনঞ্জয়বাবু। তারপরই ছবি আঁকাকে নিজের নেশা ও পেশা বানিয়ে নেন। ধনঞ্জয়বাবুর দাদা সঞ্জয় চক্রবর্তীও একজন চিত্রশিল্পী। প্রাক্তন সেনাকর্মী মধুসূদন চক্রবর্তী বলেন, ছেলের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।
ধনঞ্জয়বাবু বলেন, আঁকার সময়েও জানতাম না, এই ছবি মুখ্যমন্ত্রী খোদ প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেবেন। আমাকে বলা হয়েছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি এঁকে দিতে। কোন সাইজের ছবি হবে সেটাও বিস্তারিত বলা হয়। দু’দিনের মধ্যে সেই ছবি হস্তান্তর করতে বলা হয়েছিল। আমি সময় মতো ছবি তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। পরে সংবাদ মাধ্যমের তরফে জানতে পারি, শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদির হাতে পৌঁছে গিয়েছে আমার ছবি।