• দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলার আত্মঘাতী, শুরু রাজনৈতিক তরজা
    বর্তমান | ২৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরচর্চা শুরু করেছিলেন বাড়িতে। ছেলের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন পড়াশোনার বিষয়ে। তার পরেই মায়ের ঘরে ঢুকে গলায় দড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হলেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার তথা সিআইসি (স্বাস্থ্য) সঞ্জয় দাস(৫০)। তাঁর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। শনিবার বিকেলে তাঁর মৃতদেহ দক্ষিণ দমদমের শীল কলোনি, জ’পুর ওয়ার্ড অফিস, পুরসভা সহ যেখানেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেখানে মানুষের ঢল নেমেছে। সঞ্জয়বাবুর আচমকা আত্মঘাতী হওয়ার কারণ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পরিবারের তরফে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

    দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোরক্ষবাসী রোডের আবাসনে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন সঞ্জয়বাবু। স্ত্রী মৌমিতা দাস, নবম শ্রেণীতে পড়া ছেলে সৌম্যজয় ও বছর ছয়ের কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি ২০১৫ সাল থেকে পাশের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পরপর দু’বারের কাউন্সিলার। ওয়ার্ডটি রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার অন্তর্গত। সেখানকার প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন সঞ্জয়বাবু। অন্যদিকে, সঞ্জয়বাবুর আত্মহত্যার ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। হাসপাতালে ভিড় করেন সঞ্জয়বাবুর অসংখ্য অনুগামী থেকে শুরু করে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি, দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারপার্সন কস্তুরী চৌধুরী সহ অন্যান্য পুর প্রতিনিধিরা। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজারহাট-গোপালপুর ও বিধাননগর এলাকায় পরপর তৃণমূল কাউন্সিলারদের গ্রেপ্তারিতে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। ভোটের ফলাফলের পর এলাকায় সঞ্জয়বাবুর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলে একটি ব্যানারও লাগানো হয়েছিল। সঞ্জয়বাবুর মৃত্যুতে পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি প্রকৃত তদন্তের দাবি তুলেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। সমাজমাধ্যমে  তিনি লিখেছেন, এই অকাল প্রয়াণের খবর অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে তাঁর রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কাজের সমালোচনা থাকবে। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতি, অবৈধ নির্মাণ ও তোলাবাজি নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ ছিল। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি কারও মানসিক চাপ, প্ররোচনা বা অন্য কোনও কারণ এই মৃত্যুর নেপথ্যে কাজ করেছে কি না, তার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ  তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। আবেগ নয়, তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতেই সত্য সামনে আসুক। দমদমের তৃণমূল নেতা প্রবীর পাল বলেন, কেউ কনস্ট্রাকশন ব্যবসা করতেই পারে। পুলিশের কাছে কিংবা এলাকায় কোনও অভিযোগ আছে বলে শোনা যায়নি। কাজ ও খেলা পাগল সঞ্জয়ের এমন পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না। এদিন সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। কুণালবাবু বলেন, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের পর ওই পুর প্রতিনিধির কাছে বিপুল টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায়, ব্ল্যাকমেল করতে অন্যের নাম ব্যবহার করে বদনাম দিয়ে ব্যানার লাগানো হয়েছিল সঞ্জয়বাবুর বিরুদ্ধে। 
  • Link to this news (বর্তমান)