সংবাদদাতা, বজবজ: ফলতা থেকে সরাসরি কলকাতা যাতায়াতের জন্য রেল যোগযোগ প্রয়োজন। না হলে অসুবিধায় পড়তে হবে এখানকার বড়ো থেকে ছোটো উদ্যোগপতিদের। কারণ, ফলতা অবাধ বাণিজ্য কেন্দ্র জুড়ে বড়ো আকারে শিল্পনগরী তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। এমনিতেও ফলতাসহ সংলগ্ন বহু গ্রামের মানুষকে কৃষিজ পণ্য ছাড়াও হাতে তৈরি নানা জিনিস বিক্রির জন্য রোজ কলকাতায় যাতায়াত করতে হয়। এজন্যও রেল যোগযোগ জরুরি। কারণ এখানকার সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা খুব দুর্বল।
এদিকে, আজ রবিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হবে। এর আগে প্রার্থী হয়ে গ্রামে গ্রামে প্রচারে গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে এখানকার দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ শুনতে হয়েছিল বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে। তাঁর কাছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছিলেন এলাকাবাসীরা। তাঁদের সেই কথা অনুযায়ী কাজ করার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। দেবাংশুবাবুর কথায়, আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, বিগত কয়েক বছর আগে ডায়মন্ডহারবার থেকে ফলতা হয়ে বজবজ পর্যন্ত পৃথক রেললাইন তৈরি নিয়ে পূর্ব রেল সমীক্ষা করেছিল। ব্রিটিশ আমলে এই পথে মার্টিন রেলের লাইন ছিল। তাতে কয়লার ইঞ্জিনের ট্রেনও চলত। রেলের সেই জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনকে। ফল প্রকাশের পর পূর্ব রেলের ডিআরএম এর সঙ্গে যোগযোগ করে এক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয়টি জানতে চাইব। এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে এনিয়ে যোগাযোগ করে এগতে হবে।
ফলতা অবাধ বাণিজ্য কেন্দ্রে ২৩০ বেশি বড়ো মাঝারি ও ছোটো কারখানা ছিল। প্রতিদিন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এখানে একসময় কাজ করতেন। এখন সেখানে ২০টির মতো কারখানা রয়েছে। বন্ধ হওয়া কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের এখানে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান দেবাংশুবাবু। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বড়ো কারখানা যাতে এখানে হয়, তারও পরিকল্পনা হয়েছে।
মোদ্দা কথা, ফলতাকে বড়ো শিল্পনগরীর রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। এছাড়াও ফলতায় গঙ্গার ধার ধরে ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধও মেরামত করা হবে। জল জীবন মিশনের টাকায় এতদঞ্চলে পানীয় জলের পাইপলাইন বসানো হলেও এখনও বাড়ি বাড়ি জল যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সাব মার্সিবল পাম্প বসিয়ে জল দেওয়া হচ্ছে। তাতে জটিলতা কমার জায়গায় বাড়ছে। এই সমস্যার সমাধানও করতে হবে। এছাড়া এখনও গ্রামের বহু জায়গায় মাটির রাস্তা রয়েছে। তার তালিকাও তৈরি করছে বিজেপি।