নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শহরের পানীয় জল ও নিকাশি সমস্যা মেটাতে এবার সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন হাওড়ার তিন বিজেপি বিধায়ক। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রথম সমন্বয় বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শনিবার উত্তর হাওড়ার সালকিয়ায় নির্মীয়মাণ জলপ্রকল্প এবং হাওড়ার নিকাশির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পচা খাল’ পরিদর্শন করেন উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই, বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং এবং শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন হাওড়া পুরসভা, কেএমডিএ এবং সেচদপ্তরের আধিকারিকরা।
প্রথমে সালকিয়ার নস্করপাড়া রোডে তৈরি হওয়া নতুন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তাঁরা। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে কোথায় কাজ আটকে রয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন বিধায়করা। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই জানান, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন পাইপলাইন বসানোর কাজও নির্দিষ্ট রূপরেখা ধরে এগোবে। প্রকল্প চালু হলে উৎপাদিত জলের প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তর হাওড়ায় এবং বাকি অংশ বালিতে সরবরাহ করা হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে পদ্মপুকুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে হাওড়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে সালকিয়ায় দ্বিতীয় জল শোধনাগার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্প থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫.৫ মিলিয়ন গ্যালন পরিস্রুত জল সরবরাহের টার্গেট রাখা হয়েছে। এরপর তিন বিধায়ক যান পচা খাল পরিদর্শনে। বর্ষার আগে খালের বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। উমেশ রাইয়ের দাবি, খালে পলি জমে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই বালি ও বেলুড় এলাকায় জল জমছে। আগামী সোমবার পুরদপ্তরে যৌথ বৈঠকে নিকাশি ও পানীয় জলের সমস্যা মোকাবিলায় পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়করা। নিজস্ব চিত্র