• আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির সম্ভাবনা, হাঁসফাঁস গরম থেকে মুক্তি!
    বর্তমান | ২৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে সুখবর শোনাল আবহাওয়া দপ্তর। তাদের ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে  দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঝড়-বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ফলে মুক্তি মিলতে পারে ভ্যাপসা গরম থেকে। আপাতত পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই জোরালো ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটারে পৌঁছতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি ভালো ঝড়-বৃষ্টি পেতে পারে বুধবারও। শনিবার আবহাওয়া দপ্তর দীর্ঘকালীন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। তাতে জানানো হয়েছে, আগামী ৩-৪ দিন দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার বিশেষ হেরফের হবে না। তারপর ২-৩ ডিগ্রি কমবে।

    গত বেশ কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের উপকূল লাগোয়া ও কাছাকাছি এলাকায় ভ্যাপসা অস্বস্তিকর গরম (হিউমিড অ্যান্ড ডিসকমফোর্ট) চরমে। পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্য অংশে অস্বস্তিকর গরম (হট অ্যান্ড হিউমিড) চলছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের আশপাশে থাকলেও, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় কষ্ট বেড়েছে আম জনতার। সর্বনিম্ন আপেক্ষিক আর্দ্রতা কলকাতায় ৬৫-৬৬ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশের উপরে থাকছে।

    অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের হিমালয় লাগোয়া এলাকায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার অবস্থানের জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ঢুকছে। কিন্ত তা উত্তরবঙ্গের দিকে চলে যাচ্ছে। জলীয় বাষ্প পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে পাহাড় ও লাগোয়া এলাকাতে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি করছে। তাই সেখানে বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন জায়গায় ৫৮ থেকে ১৭৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ফলে গরমের মাত্রাও অনেক কম। শুক্রবার উত্তরবঙ্গে সবচেয়ে ‘গরম’ ছিল মালদহ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৩৪.৮ ডিগ্রিতে। অন্যদিকে, ৩৯.১ ডিগ্রিতে পৌঁছে দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে উষ্ণতম ছিল ঝাড়গ্রাম। আর বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রমেঘ তৈরি হওয়ার জেরে ঝড়-বৃষ্টি অধরাই দক্ষিণবঙ্গে।

    আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গে সাধারণভাবে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে থাকার জন্য ‘ঘর্মাক্ত গরম’ বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই জলীয় বাষ্প থেকে শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার জন্য বায়ুপ্রবাহের যে গতিপ্রকৃতি প্রয়োজন, তা দক্ষিণবঙ্গে অনুপস্থিত এই মুহূর্তে। তাই বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে। আগামী  সপ্তাহে এই পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার আশা হয়েছে। তখন জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শক্তিশালী বজ্রমেঘ ফের তৈরি হতে শুরু করবে। বৃহস্পতি ও শুক্রবারের পরও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঝড়-বৃষ্টি কয়েকদিন চলবে এমন আশা আছে। বৃষ্টি হলে ভ্যাপসা গরমও কমবে। 

    এদিকে আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর ও আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি বজায় রয়েছে। তবে কেরল হয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষার প্রবেশ কবে, এদিনও তা নিশ্চিত করে জানায়নি কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। ফলে মধ্য ভারতে আপাতত দিন সাতেক তাপপ্রবাহ চলবে বলেই আশঙ্কা। বিদর্ভ এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পেরিয়ে গিয়েছে ৪৭ ডিগ্রির গণ্ডি! 
  • Link to this news (বর্তমান)