জুলাই থেকে আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যসাথীতে যুক্ত সব উপভোক্তাই আওতায়: শুভেন্দু
বর্তমান | ২৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকার পরিবর্তনের পর যেসব প্রকল্প চালু থাকা নিয়ে সংশয়ে ছিল রাজ্যবাসী, তার অন্যতম হল স্বাস্থ্যসাথী। পট পরিবর্তনের অন্তর্বর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করা নিয়ে একপ্রস্থ ভোগান্তিও গিয়েছে অনেকের। সবার মনে প্রশ্ন ছিল, যত মানুষ স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পায়, তারা প্রত্যেকে আয়ুষ্মান ভারত পাবে তো? কারণ, আয়ুষ্মান ভারতের ক্ষেত্রে অনেক শর্ত আছে। এই অবস্থায় যাবতীয় দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, স্বাস্থ্যসাথীর প্রত্যেক উপভোক্তাই পাবেন আয়ুষ্মান ভারত। প্রায় ৬ কোটি রাজ্যবাসী জুলাই থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড পাবেন। যাঁরা এতদিন স্বাস্থ্যসাথীতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, তাঁরাও পাবেন আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডার সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। আরও বলেন, ‘রাজ্যের প্রায় ১ কোটি বাসিন্দা রুজি-রুটির টানে বা পড়াশোনা করতে বিভিন্ন রাজ্যে আছেন। তাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। জুনের প্রথম সপ্তাহে দিল্লিতে কেন্দ্রের সঙ্গে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের চুক্তি স্বাক্ষর হবে।’ প্রকল্প রূপায়ণে এদিন ৯৭৬ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় অনুদানও মিলেছে। এছাড়া, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, মিসলস-রুবেলা, যক্ষ্মামুক্ত ভারত, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন, জনওষধি, নয়া মেডিকেল কলেজ এবং উত্তরবঙ্গে এইমস-এর পরিকল্পনা সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে ২১০৩ কোটি দিচ্ছে কেন্দ্র। তার চার ভাগের একভাগ অর্থাৎ ৫০০ কোটি টাকা এদিনই পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ২০২৩-২৪ ও ২৪-২৫ অর্থবর্ষের বকেয়া টাকার দাবিও জানান। কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২১-২২ সালের কাজের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট পেলে সেই অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে।
১৪ বছরের কিশোরীদের সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে রাজ্যে টিকাকরণ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ৩০ মে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে এই কর্মসূচির উদ্বোধনে থাকবেন তিনি। ওই দিন যক্ষ্মামুক্ত ভারত সচেতনতা কর্মসূচির অনুষ্ঠানও হবে। শুভেন্দু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ থাকার কথা। কিন্তু আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর ও পশ্চিম বর্ধমানে তা নেই। এই চার জায়গাতেই মেডিকেল কলেজ এবং উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী জনওষধি প্রকল্পের ৪৬৯টি ওষুধ দোকান করার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্যের। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর ফলে মানুষের ওষুধখাতে খরচ ১০ ভাগ কমে যাবে। হবে অমৃত ভাণ্ডার। ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে ওষুধ মিলবে সেখানে।
কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহ প্রভৃতি জেলায় পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের মৃত্যুহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বীরভূম, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও উত্তর দিনাজপুর—এই সাত জেলায় কুষ্ঠ নির্মূলকরণ কর্মসূচির বেহাল দশা নিয়েও চিন্তিত তিনি। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ স্বাস্থ্যপ্রকল্পগুলিতে কর্মী নিয়োগের অবস্থা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। জাতীয় গড় যেখানে ৯৮ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গে তা ৫৩ শতাংশ। তিন মাসের মধ্যে স্বচ্ছ নিয়োগ নীতি তৈরি করে এই সমস্যা মেটানো হবে।’ কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স প্রকল্পে রাজ্য মাত্র ৫৬.৬৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘স্বাস্থ্যদপ্তরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে দিল্লি থেকে তিনটি টিম শীঘ্রই রাজ্যে আসছে।’ একাধিক স্বাস্থ্য প্রকল্প রূপায়ণে খামতি তুলে ধরে রাজ্যের পূর্বতন সরকারকে চাঁচাছোলা সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘অসংখ্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প গ্রহণ না করায় রাজ্যবাসী এতদিন স্বাস্থ্যে বঞ্চিত হয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আমাকে জানালেন, ২০১৫-১৭ সালেও দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ওই সময় পশ্চিমবঙ্গ থেকে ডেঙ্গুর কোনো তথ্যই কেন্দ্রকে দেওয়া হত না।’