সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: আশা-নিরাশার দোলাচল। প্লে-অফের হাজারো সমীকরণে মিশে তিরতিরে আশঙ্কা আর প্রবল অনিশ্চয়তা। রবিবার সন্ধ্যায় নন্দনকাননে কলকাতা নাইট রাইডার্স শুধু দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধেই নামছে না, অদৃশ্য প্রতিপক্ষ আরও অনেক কিছু। শনিবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব কিংসের জয় আরও কঠিন করল অংক। জিতলেও বিচার্য হবে নেট রানরেট। তবে ছুটির আমেজমাখা সন্ধ্যায় অক্ষর প্যাটেলের সঙ্গে টস করতে যাওয়ার আগেই অজিঙ্কা রাহানের সামনে ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। আরব সাগরের পাড়ে বিকেলের ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস জিতলেই মুখের উপর দরজাটা বন্ধ হয়ে যাবে নাইটদের। বাজিগরের ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে হারা আবশ্যক রিয়ান পরাগদের। নইলে, দিল্লির বিরুদ্ধে নামার আগেই বাজবে বিদায়ঘণ্টা। ম্যাচটা পরিণত হবে স্রেফ নিয়মরক্ষায়।
সোনালি-বেগুনি শিবির অবশ্য ‘কিন্তু, যদির’ জটিল আবর্তে ঘুরপাক খেতে নারাজ। নিজেদের হাতে থাকা কাজটাতেই থাকছে যাবতীয় ফোকাস। দিল্লিকে হারানো ছাড়া সত্যিই কোনো কিছু হোমটিমের নিয়ন্ত্রণে নেই। আর তাই আনুষাঙ্গিক সবকিছুকে ড্রেসিং-রুমে ঢুকতে দিতেই নারাজ ম্যানেজমেন্ট। শনিবার বিকেলে নেটে তাই ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেল নাইটদের। ফিন অ্যালেন, ক্যামেরন গ্রিন, রভম্যান পাওয়েল, রিঙ্কু সিংরা যথারীতি তুলে তুলে মারলেন। রাহানেকেও রানের লক্ষ্যে দৃঢপ্রতিজ্ঞ দেখাল। তবে চিন্তার দুটো জায়গা থাকছেই। বরুণ চক্রবর্তী মাঠে এসেও কেমন যেন গুটিয়ে রাখলেন নিজেকে। অবশ্য এই ম্যাচটা যেমন করেই হোক, খেলে দিতে চাইছেন মিস্ট্রি স্পিনার। কিন্তু অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর অভাব ঢাকা কঠিন। মণীশ পাণ্ডে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে প্রমোশন পেয়ে রান করলেও ‘কনকাসন সাব’ তেজস্বী দাহিয়া ব্যর্থ। ফিন অ্যালেনের হাতে কিপিং গ্লাভস তুলে দেওয়ার একটা আলতো ভাবনা সেজন্যই থাকছে। তাতে মরণ-বাঁচন ম্যাচে বাড়তি ব্যাটারের সুরক্ষা মিলবে।
এদিন ইডেনে নাইটদের নেটের ঠিক পিছনের গ্যালারিতে এক সমর্থক যখন শঙ্খধ্বনি করলেন, তখন রাহানেরা অনেকেই প্র্যাকটিস সেরে ড্রেসিং-রুমে। আর ওপাশে সবে দ্বিতীয় দফায় নেটে নেমে ধুন্ধুমার চালাচ্ছেন লোকেশ রাহুল। ১৭১ স্ট্রাইক রেটে পাঁচশো প্লাস রান এসেছে তাঁর ব্যাটে। কিছুক্ষণ আগে এক বঙ্গসন্তান, অভিষেক পোড়েলকেও দেখিয়েছে বিধ্বংসী মেজাজে। নিজেকে প্রমাণের বাড়তি তাগিদ সঙ্গী বাঁ-হাতির। ট্রিস্টান স্টাবসের সঙ্গে ‘কিলার’ মিলার, আশুতোষ শর্মা — ক্যাপিটালসের ব্যাটিং রীতিমতো শক্তিশালী। কলকাতার পথের কাঁটা হতে পারেন এক প্রাক্তন নাইট, মিচেল স্টার্কও। নিশ্চিতভাবেই চেনা মাঠ, পরিচিত কন্ডিশন তাঁর বাড়তি মোটিভেশন। লুঙ্গি এনগিডির স্লোয়ার বৈচিত্র্যও ভোগাতে পারে।
দিল্লির কিন্তু কিছুই হারানোর নেই। অন্যদিকে, প্রথম পর্বের ক্রমাগত হতাশার মেঘ সরিয়ে কলকাতার আকাশে জ্বলছে আশার সলতে। গনগনে আবেগের সঙ্গে তাই মিশছে দমবন্ধকরা টেনশন!