এই সময়, ঘাটাল: তৃণমূল কাউন্সিলারের বাড়িতে মজুত রয়েছে ত্রাণ সামগ্রী, ত্রিপল ও ত্রাণে বিলি করার বাসনপত্র—এমনটাই অভিযোগ ছিল স্থানীয় মানুষের। এই নিয়ে শনিবার স্থানীয় বিজেপি নেতা–কর্মীরা ঘাটালের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মৃদুলা দত্তের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই কাউন্সিলারের বাড়ির থেকে উদ্ধার হয়েছে শতাধিক সরকারি ত্রিপল, বন্যা দুর্গতদের দেওয়ার জন্য স্পেশাল কিট বাসনপত্র। এলাকার মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় কাউন্সিলার মৃদুলার কাছ থেকে ত্রাণ চেয়েও পাননি দুঃস্থরা। কোনও না কোনও বাহানায় তিনি ত্রাণ দিতে এড়িয়ে গিয়েছেন। এ দিন বিজেপির কর্মী–সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। সে সময়ে বাড়িতেই ছিলেন কাউন্সিলার মৃদুলা। খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে কাউন্সিলারের বাড়িতে হাজির হয় ঘাটাল থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয় সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। উদ্ধার হওয়া ত্রাণসামগ্রীগুলি পুরসভায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি রামকুমার দে বলেন, ‘সাধারণ গরিব মানুষের প্রাপ্য জিনিস নিজেদের বাড়ি, পার্টি অফিসে মজুত করে রেখে দিয়েছে। অথচ স্থানীয় মানুষজন ত্রাণ চাইতে গিয়ে তাঁদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষজন তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে।’
যদিও তৃণমূল কাউন্সিলার মৃদুলা দত্ত বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। ওয়ার্ডে যাঁদের ত্রাণ প্রয়োজন ছিল দেওয়া হয়েছে। পুরসভা থেকে কাউন্সিলারদের ত্রাণসামগ্রী ভাগ করে দেওয়া হয়। তারই কিছু রয়ে গিয়েছে।’ এ নিয়ে ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা বলেন, ‘কাউন্সিলারদের কাছে ত্রাণ থাকবে না তো কার কাছে থাকবে। আমার ১৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলারদের সরকারি ত্রাণ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা তাঁদের ওয়ার্ডে যাঁদের ত্রাণ দরকার ছিল, তাঁদের বিলি করেছেন। এটা এমন কিছু নয়।’
জানা যায়, এ দিন পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল কার্যালয় থেকেও উদ্ধার হয়েছে ত্রাণসামগ্রী। তিন দিন আগে ঘাটাল ব্লকের মনসুকা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোড়ইঘাট এলাকায় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য রাম পালের গুদাম থেকে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য।