খেলার জন্য মাঠের কোণে জড়ো হয়েছিল একদল খুদে। কিন্তু বিকেলের সেই আনন্দ যে মুহূর্তে এমন বিভীষিকায় বদলে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। অন্ডালের সিঁদুলি এলাকার বেদপাড়ায় আচমকা বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে বাজ। আর সেই বজ্রপাতের কবলে পড়ে গুরুতর জখম হয়েছে তিন শিশু। যদিও সৌভাগ্যক্রমে প্রাণহানির ঘটনা সামনে আসেনি। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে আসানসোলে বজ্রাঘাতের জেরে মৃত্যুর পর এই আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বেদপাড়া এলাকার একটি খোলা মাঠে গাছের পাশে খেলছিল ওই শিশুরা। ঠিক সেই সময়ই আকাশ কালো করে হঠাৎ বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা বিকট শব্দের সঙ্গে একটি বাজ এসে পড়ে ঠিক তাদের খেলার জায়গায়। বজ্রাঘাতের তীব্রতায় মাঠেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে তিন জন। বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনেই চারপাশ থেকে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শিশুদের উদ্ধার করে এক মুহূর্ত দেরি না করে উখড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুই শিশুর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অপর এক শিশুর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুরের বিধাননগর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকি দুই খুদে বর্তমানে বিপন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই গোটা সিঁদুলি এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার পর ভূ-প্রাকৃতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপদের সময় যাতে শিশুরা যাতে সতর্ক থাকে, সেই বিষয়ে নজর দিতে হবে অভিভাবকদের। তাদের খেলার মাঠে যাওয়া বন্ধ করার থেকে বজ্রপাতের সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, সেই বিষয়গুলি শেখাতে হবে। বজ্রপাত শুরু হলে কোথাও আশ্রয় নেওয়ার কথা তাদের বলতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে শিশুরা প্রথমেই বাড়ি ফিরে আসতে চায়। কিন্তু যদি পরিস্থিতিতে তেমন না থাকে, তাহলে যে জায়গায় আছে, সেখানেই তাদের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানাতে হবে। কোনও গাছের তলায়, বিদ্যুতের খুঁটি বা খোলা মাঠের নিচে যাতে কোনওভাবেই তারা দুর্যোগের সময় না থাকে, সেই বিষয়টি নিয়ে শিশুদের সতর্ক করে দিতে হবে। তবেই এমন বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।