• বাংলায় এবার টেক্সটাইল হাব! আর্থিক সংকট থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে নির্মলার দ্বারস্থ শমীক
    প্রতিদিন | ২৪ মে ২০২৬
  • কেন্দ্রের সহযোগিতায় বাংলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের রূপরেখা খুঁজছে রাজ্য বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের ভেঙে পড়া আর্থিক পরিস্থিতি, শিল্পোন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় বকেয়া বরাদ্দ-এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই শনিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে বাংলার অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। বৈঠকের পরে শমীক জানান, পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ভাঁড়ার যে কার্যত শূন্য, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অবগত। তাঁর কথায়, “কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে কী ভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা যায়, সেই পথ তিনি খুঁজে বার করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।”

    জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে রাজ্য বিজেপির তরফে কেন্দ্রের কাছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য বকেয়া তহবিল দ্রুত মেটানোর দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রশ্নেও আলোচনা হয়। বিজেপির দাবি, রাজ্যে শিল্পায়নের গতি ফেরানো না গেলে কর্মসংস্থানের সংকট আরও বাড়বে। এ প্রসঙ্গে শমীকের বক্তব্য, “গত ৫০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বাংলা এখন পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। কাজের খোঁজে মানুষকে বাইরে যেতে হচ্ছে। এই অবস্থা বদলাতে হবে।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর মতো শিল্পোন্নত রাজ্যের সারিতে ফিরিয়ে আনাই বিজেপির লক্ষ্য। 

    বিজেপি নেতৃত্বের মতে, কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা এবং নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে রাজ্যে বিনিয়োগ টানা সম্ভব। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়িয়ে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যাও কমানো যেতে পারে। বৈঠকে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যের কথাও উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির আলোচনায় আলাদা করে গুরুত্ব পেয়েছে তাঁত শিল্প এবং টেক্সটাইল হাব। এই বিশেষ সেক্টর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই অর্থমন্ত্রী বঙ্গ সফরে যেতে পারেন এমন সম্ভাবনা ও রয়েছে।

    নতুন সরকারের কাজে গতি আনতে গেলে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ জরুরি। সেই বিষয়টাই দলের পক্ষ থেকে তুলে ধরেছেন শমীক। যা আগামী দিনের জন্য জরুরি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এখনও বছর দুয়েক দেরি থাকলেও লোকসভা ভোটের আগে বাংলার অর্থনীতি ও শিল্পোন্নয়নকে সামনে রেখে বিজেপি এখন থেকেই নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)