২০২৬ সালের IPL মরশুমে ৬৮টি ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও, প্লে-অফের শেষ জায়গাটি নিয়ে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। বরং শেষ পর্যায়ে এসে এই লড়াই আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এখনও তিনটি দলের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে, আর শেষ একটি জায়গার জন্য অঙ্ক কিন্তু এক মুহূর্তে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।
শনিবার রাতে লখনৌ সুপার জায়ান্টসকে (LSG) ৭ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফে টিকে থাকার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে পাঞ্জাব কিংস (PBKS)। এই জয়ের ফলে তারা এখনো শেষ চারে যাওয়ার দৌড়ে আছে, তবে পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল। নিজেদের ম্যাচ জিতলেও তাদের এখন অন্য দলের ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। এক কথায়, পাঞ্জাব কিংসের প্লে-অফ ভাগ্য আর শুধু তাদের হাতে নেই।
এই মুহূর্তে পয়েন্ট টেব্লের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে একটি ম্যাচের ফল পুরো সমীকরণ বদলে দিতে পারে। কিছু দল ইতিমধ্যেই জায়গা পাকা করে ফেলেছে, আবার কিছু দল প্রায় ছিটকে গিয়েছে। কিন্তু শেষ একটি জায়গার জন্য লড়াই এখনো একেবারে খোলা, আর সেটাই এই মরশুমের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শীর্ষ তিন দল ইতিমধ্যেই জায়গা নিশ্চিত করেছে
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB), গুজরাট টাইটান্স (GT) এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (SRH) ইতিমধ্যেই প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে। এই তিন দল গোটা টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করেছে। তাই তারা শীর্ষ তিনে জায়গা করে নিয়ে কোয়ালিফায়ার ১ ম্যাচ খেলার সুযোগও পেয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ তারা এখন সরাসরি ফাইনালে যাওয়ার সুযোগের খুব কাছেই রয়েছে।
প্লে-অফ চার নম্বর জায়গার জন্য চলছে তীব্র লড়াই
এখন সবচেয়ে বড় লড়াই হচ্ছে প্লে-অফের চার নম্বর জায়গার জন্য। এই জায়গার জন্য লড়ছে পাঞ্জাব কিংস, রাজস্থান রয়্যালস (RR) এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। প্রতিটি দলেরই এখন সমীকরণ খুব জটিল হয়ে গিয়েছে। একটি ম্যাচের ফল পুরো পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। অন্যদিকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (MI), লখনৌ সুপার জায়ান্টস, চেন্নাই সুপার কিংস (CSK), দিল্লি ক্যাপিটালস (DC) ইতিমধ্যেই প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে। এখন সব লড়াই তিন দল— পাঞ্জাব, রাজস্থান, কলকাতার মধ্যে।
লিগের শেষ দুই ম্যাচের উপর নির্ভর করছে ভাগ্য
এখন পরিস্থিতি যা তাতে, রাজস্থান রয়্যালস যদি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারায়, তা হলে পাঞ্জাব কিংস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স দুই দলই প্লে-অফ থেকে ছিটকে যাবে। কারণ রাজস্থানের পয়েন্ট সেক্ষেত্রে ১৪ ম্যাচে হবে ১৬। কলকাতা যদি তাদের শেষ ম্যাচও জেতে, তবে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ১৪ ম্যাচে ১৫। পাঞ্জাবেরও পয়েন্ট ১৪ ম্যাচে ১৫। তাই এই দুই দলে রাজস্থানের হারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। রাজস্থানের কাজ বরং অনেকটাই সহজ, তাদের শুধু নিজেদের শেষ ম্যাচ জিততে হবে।
কিন্তু যদি রাজস্থান হেরে যায়, তা হলে তাদের নিজেদের প্লে অফের আশা শেষ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় শেষ ম্যাচ দিল্লি ক্যাপিটালস (DC) এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই ম্যাচই ঠিক করে দেবে শেষ প্লে অফ দল কে হবে। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে, কারণ নেট রান রেটও বড় ভূমিকা নেবে।
পাঞ্জাবের ১৪ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট এবং তাদের নেট রানরেট ০.৩০৯। অন্যদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ১৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্টে, নেট রানরেট ০.০১১। এখন KKR-এর প্লে অফে ওঠার অঙ্কটা ভয়ঙ্কর জটিল। প্রথমে ব্যাট করলে প্রায় ২০০ রান করে অন্তত ৭৭ রানে জিততে হবে। আর পরে ব্যাট করলে ১৮০ রান ১২ থেকে ১২.৪ ওভারের মধ্যে তুলতে হবে। অর্থাৎ ৪৪ থেকে ৪৮ বল বাকি থাকতে ম্যাচ শেষ করতে হবে KKR-কে, তবেই তারা পাঞ্জাবকে নেট রানরেটে টপকাতে পারবে।