• আই লাভ রিজেকশন, সেটা খিদে আরও বাড়ায়: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
    এই সময় | ২৪ মে ২০২৬
  • অন্য সময় প্রাইম: পরের প্রজেক্টে আপনি শুধুই পরিচালক। কোন কাজে শুধু পরিচালনা করবেন আর কোনটায় অভিনয়, ঠিক করেন কী ভাবে?

    শিবপ্রসাদ: আমি একা এই সিদ্ধান্ত নিই না। আমাদের সংস্থা উইন্ডোজ়-এ সবাই মিলেই ব্যাপারটা ঠিক করা হয়। আর ফাইনাল কল নেন নন্দিতা রায় (পরিচালক)। ‘বহুরূপী’-তে বিক্রম প্রামাণিকের চরিত্রে আমাকে মানাবে, এটা সবার সিদ্ধান্তই ছিল। আবার ‘রক্তবীজ’-এ আবির (চট্টোপাধ্যায়) বা অঙ্কুশ (হাজরা) যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সেখানে আমাকে মানাত না। ইচ্ছাকৃত ভাবেই এই সমষ্টিগত সিদ্ধান্তের পদ্ধতিটা মেনে চলি।

    অন্য সময় প্রাইম: পরিচালক হিসেবে পরের সিনেমা নিয়ে ঠিক কী প্রত্যাশা?

    শিবপ্রসাদ: ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ একটি ডিটেকটিভ ফিল্ম। আগাথা ক্রিস্টির ‘মিস মার্পেল’ সিরিজ় থেকে অনুপ্রাণিত হলেও গল্পটি বাঙালিয়ানায় ভরা। কাহিনির মাধ্যমে মেয়েদের সমানাধিকার, অঙ্গদানের মতো ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দর্শকরা ভরপুর মজা ও আনন্দ পাবেন। আশা করছি তাঁদের ভালো লাগবে।

    অন্য সময় প্রাইম: মধ্যবিত্ত বাঙালির সিনেমা-দর্শন কি বদলেছে? নাকি বক্স অফিসের চাপ-সহ নানা বিষয়ে আপনাদের গল্প বলার ধরন পাল্টেছে?

    শিবপ্রসাদ: বরাবরই দর্শকদের কাছে নিজেদের নতুন মোড়কে মেলে ধরার চেষ্টা করেছি আমরা। আমাদের প্রথম কাজ ‘ইচ্ছে’ যেমন মা ও ছেলের গল্প। তার পরে আবার ‘মুক্তধারা’ জেলের গল্প। ‘অলীক সুখ’ একজন ডাক্তারের গল্প আবার স্কুল অ্যাডমিশনের প্রেক্ষাপটে ‘রামধনু’। ‘বেলাশেষে’ ‘প্রাক্তন’, ‘পোস্ত’ বা ‘কণ্ঠ’ সবই কিন্তু একে অন্যের থেকে আলাদা ধারার গল্প। দর্শকদের কোনও অংশ আমাদের থেকে একটা নির্দিষ্ট ধারার ছবি প্রত্যাশা করতেই পারেন, কিন্তু আমরা যে বিষয়গুলো হৃদয় থেকে কানেক্ট করতে পারি, সেটাই দর্শকদের সামনে হাজির করে এসেছি।

    অন্য সময় প্রাইম: নিন্দুকদের দাবি, মধ্যবিত্তর ইস্যু নিয়ে কাজ করা আসলে সেফ চয়েজ়।

    শিবপ্রসাদ: যে বিষয় সমাজে আলোড়ন তৈরি করেছে, তেমন বিষয়ও কিন্তু আমরা বারবার বেছে নিয়েছি। কলকাতার বিভিন্ন স্কুলে শিশুদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির একাধিক অভিজ্ঞতার খবর যখন আসছিল, সেই সময়ে আমরা ‘হামি’-র কাজ করছিলাম। বহু মানুষ বলেছিলেন, ‘ছবিটা করা উচিত হচ্ছে না। বিষয়টা বুমেরাং হয়ে যেতে পারে।’ তবে আমরা দৃষ্টিভঙ্গি বদলের কথা বলেছিলাম। ‘গোত্র’-তে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির কথা বলেছি, দেশজুড়ে তখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতি।

    অন্য সময় প্রাইম: অনেকের মতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আর আগের জায়গায় নেই, সমস্যাটা কোথায়? পরিস্থিতি পাল্টাবে কী ভাবে?

    শিবপ্রসাদ: আমাদের আসল সমস্যা হচ্ছে, বাঙালি হিসেবে আমরা নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে বা সেলিব্রেট করতে ভুলে গিয়েছি। বাইরে থেকে কেউ একজন এসে বলে যাচ্ছেন, বাংলা সিনেমা চলছে না, সেটাই অনেকে মেনে নিচ্ছেন। অথচ খোঁজ নিন, হয়তো যে বলছেন, তাঁদের নিজেদের ফিল্মও চলছে না। তাই কে কী বলছেন সেটা শুনেই ভাবতে না বসে ক্রস ভেরিফাই করে দেখে নেওয়া ভালো। আর নিজের ঘরের মানুষকে সম্মান দিতে ভুলে যাচ্ছেন অনেকে। একটা উদাহরণ দিই, ‘রামধনু’ যখন তৈরি হলো তা নিয়ে কারও কোনও বক্তব্য নেই, কিন্তু যখন ‘হিন্দি মিডিয়াম’ তৈরি হলো তখন অনেকের টনক নড়ল। টেস্টটিউব বেবির জনক সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছিল। এমন একাধিক ঘটনা সমাজের সর্বস্তরেই।

    অন্য সময় প্রাইম: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সদস্য হিসেবে সিস্টেমের থেকে কী প্রত্যাশা?

    শিবপ্রসাদ: রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ চাইব। রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াও সকলে যাতে ঠিকমতো কাজ করতে পারেন, সেটার প্রত্যাশা রাখব। রাজনীতি কেউ করতেই পারেন, একজন ব্যক্তির নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্ট্যান্ডপয়েন্ট থাকতেই পারে, কিন্তু সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যদি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গেও যুক্ত থাকেন, আর তেমন মানুষদের সংখ্যাটা যদি একটা ইন্ডাস্ট্রিতে নব্বই শতাংশ হয়ে যায়, সেটা তো অবশ্যই কাজ করার জন্য সমস্যার।

    অন্য সময় প্রাইম: কাজের চাপ না থাকলে একটা দিন কী ভাবে কাটে?

    শিবপ্রসাদ: ও ভাবে বসে তো কোনও দিনই কাটে না। সকালবেলা উঠে নতুন কোনও গল্প যদি না ভাবতে পারি, তা হলে নিজেকে ডেড ম্যান মনে করব। রোজ সকালে উঠে একটা নতুন কাহিনি ভাবব ও তার পরে নন্দিতা রায়কে ফোন করে বলব, শুনুন আজ এই গল্পটা ভেবেছি। বেশিরভাগ দিনই উনি প্রাইমারি ড্রাফ্টটা রিজেক্ট করবেন, আর তার পরে আমি আবার খাটতে শুরু করব, এটাই আমার মোটিভেশন। জিনিয়া (সেন, স্ত্রী) ও মাকেও গল্প শোনাই, সাজেশন চাই। আর আই লাভ রিজেকশন, কারণ সেটা আমার খিদে আরও বাড়ায়। আমি চাই লোকে না বলুক, কারণ, না-কে হ্যাঁ করার মধ্যে আলাদা এক আনন্দ রয়েছে।
  • Link to this news (এই সময়)