• তিন জেলা পাচ্ছে মেডিক্যাল কলেজ, প্রশাসনকে জমি খোঁজার নির্দেশ রাজ্যের
    এই সময় | ২৪ মে ২০২৬
  • এই সময়: প্রতিশ্রুতি পূরণে আরও এক ধাপ। দিনকয়েক আগেই উত্তরবঙ্গে গিয়ে ঋণ শোধ করার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তা যে স্রেফ কথার কথা নয়, তার প্রমাণ দিলেন তিনি। উত্তরের পাহাড় থেকে সমতল, তিন জেলা পেতে চলেছে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও দক্ষিণ দিনাজপুরে গড়ে উঠবে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এর জন্য জেলা প্রশাসনকে ২৫ একর জমির সন্ধান করতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্বভাবতই তিন জেলায় উৎসবের আমেজ।

    মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই তৎপরতা শুরু হয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলায়। যদিও সরকারি ভাবে মুখ খুলতে চাননি আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের কর্তারা। জানা গিয়েছে, ন্যশনাল হেল্থ মিশনের আর্থিক আনুকূল্যে গড়ে উঠবে এই মেডিক্যাল কলেজ হাপাতালগুলি। ইতিপূর্বে আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে জংশনে রেলের অব্যবহৃত জমিতে একটি কেন্দ্রীয় মানের হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ জন বালা। কিন্তু আজও ওই হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ওই দাবিকে সামনে রেখে বহু আন্দোলন করেছে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। শনিবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ার প্রস্তাবের কথা শুনে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত জেলার মানুষ।

    আলিপুরদুয়ারের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'মানবিক মুখ'-এর সম্পাদক রাতুল বিশ্বাস বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে আলিপুরদুয়ারে একটি আধুনিক মানের হাসপাতাল তৈরির দাবি জানিয়ে আসছিলাম। তাতে শুধু জেলার মানুষই নন, নিম্ন অসম ও প্রতিবেশী দেশ ভুটানেরও বহু মানুষ উপকৃত হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর শনিবারের ঘোষণার পর ফের নতুন করে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করলাম।' এতদিন চা বাগান অধ্যুষিত আলিপুরদুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবার কাঠামো দাঁড়িয়ে ছিল বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতাল, ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি ও জেলা হাসপাতালের উপর নির্ভর করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষকে ছুটতে হতো কলকাতা কিংবা দক্ষিণ ভারতে। আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিয়া বলেন, 'আমরা কথা দিলে যে কথা রাখি, শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর বার্তাতেই তা স্পষ্ট হয়েছে। আশা করছি দ্রুত রাজ্য সরকার ওই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ার কাজে হাত দেবে।' জানা গিয়েছে, এক মাসের মধ্যেই ন্যশনাল হেল্থ মিশনের আধিকারিকদের একটি দল প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল তৈরির প্রয়োজনীয় জমি ও পরিকল্পনা রূপায়নের জন্যে তিন জেলায় আসবেন। শুভেন্দুর এদিনের ঘোষণায় প্রত্যাশা পূরণের আনন্দ দক্ষিণ দিনাজপুরে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রত্যুষ ও ইকো ফ্রেন্ডস অর্গানাইজেশনের সম্পাদক কৃষ্ণপদ মণ্ডল বলেন, 'আমরা প্রথম থেকেই বালুরঘাটে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি জন্য আন্দোলন করছি। কারণ বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল চত্বরেই মেডিক্যাল কলেজ তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। বালুরঘাটে মোট ৩৩.৭২ একর জমি রয়েছে। আজ মুখ্যমন্ত্রী মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব কেন্দ্রকে পাঠিয়েছেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবার বাস্তব রূপ পেতে চলেছে।' এই ঘোষণায় বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, 'ভোটের সময়ে অভিষেক বলেছিলেন, বালুরঘাটে তৃণমূল জিতলে মেডিক্যাল কলেজ হবে। সেই সময়ে আমি বলেছিলাম, বালুরঘাটে বিজেপি জিতবে এবং আমরাই মেডিক্যাল কলেজ করব। আমরা যা বলি তার কথা রাখি।'

    একইরকম ভাবে রাজ্য সরকারের কালিম্পংয়ে নতুন একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্তে খুশির জোয়ার পাহাড়ে। ২০১৬-তে তৎকালীন বিধায়ক হরকাবাহাদুর ছেত্রীর তৎপরতায় রাজ্য সরকার কালিম্পংকে জেলা হিসাবে ঘোষণা করলেও এতদিন পরিকাঠামো সে ভাবে গড়ে ওঠেনি। একই হাল দার্জিলিংয়েরও। সেখানকার যোগীঘাটে হিল ইউনিভার্সিটি তৈরির কথা বলা হলেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয় ভবন তৈরি হয়নি। এ বার বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসে পাহাড়ে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির ঘোষণা করায় জিটিএ কর্তারাও খুশি। জিটিএর অন্যতম পরামর্শদাতা শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, 'নির্বাচনের আগে তৃণমূল সরকার কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথা জানিয়েছিল। এখন নয়া সরকার এ দিন কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথা সরকারি ভাবে ঘোষণা করায় পাহাড়ের বাসিন্দাদের খুশি না-হওয়ার কোনও কারণ নেই। আশা করছি, এ বার হিল ইউনিভার্সিটির কাজও এগোবে।' এদিন রাজ্য সরকারের ঘোষণার পরে হরকাবাহাদুর ছেত্রী বলেন, 'উন্নয়ন মানে কেবল রাস্তাঘাট তৈরি নয়। পরিকাঠামোগত উন্নয়নই আসল কথা। সেটা হলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।' জিটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে গোরুবাথানে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথা ভাবা হয়েছে। তবে সরকারি চিঠিপত্র আদানপ্রদান শুরু হলে বাকি কাজ শুরু হবে।

  • Link to this news (এই সময়)