• উত্তরের এইমস-বঞ্চনায় ইতি, কেন্দ্রের কাছে হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব পাঠাচ্ছে রাজ্য, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ২৪ মে ২০২৬
  • এই সময়: প্রায় এক যুগ আগে হওয়া বঞ্চনার এবার অবসান ঘটতে চলেছে।

    শনিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে জনিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে এইমস এর ধাঁচে একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। এ দিনই রাজ্যের উত্তরবঙ্গ মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এইমস নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ফলে এইমস হচ্ছেই, এটা ধরে নিয়ে নতুন করে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন উত্তরবঙ্গবাসী। কোথায় তৈরি হবে হাসপাতাল- এ নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

    শনিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে জনিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে এইমস এর ধাঁচে একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। এ দিনই রাজ্যের উত্তরবঙ্গ মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এইমস নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ফলে এইমস হচ্ছেই, এটা ধরে নিয়ে নতুন করে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন উত্তরবঙ্গবাসী। কোথায় তৈরি হবে হাসপাতাল- এ নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

    থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে পানিশালা এলাকায় জাতীয় সড়কের পাশে এইমস-এর জন্য একটি জমি চিহ্নিত করে। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একটি টিম ওই জায়গা পরিদর্শন করে সবুজ সংকেত দেয়। এতটা এগিয়ে যাওয়ার পরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে তৎকালীন বাম সরকারের সঙ্গে শুরু হয় টানাপড়েন।

    তার পরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে আন্দোলনের সূত্রপাত। কেন্দ্রের কংগ্রেস এবং রাজ্যের বামেদের মধ্যে এ নিয়ে চলতে থাকে রাজনৈতিক লড়াই। ২০১১-তে রাজ্যে পালাবাদলের পরে সবাই ভেবেছিল, এ বার বোধহয় সমস্যা মিটবে। কিন্তু হয় উল্টো। নতুন সরকারের সঙ্গেও জমি নিয়ে টানাপড়েন চলতে থাকে। মাঝে পানিশালা এলাকার প্রায় ৯০ জন স্বেচ্ছায় জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তাঁরা জমির দলিল নিয়ে দীপার সঙ্গে মহাকরণ অভিযানও করেছিলেন। কিন্তু রাজ্যের তৃণমূল সরকারের তরফে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। তার পর থেকে জেলার প্রতিটি নির্বাচনে শাসক-বিরোধী সব পক্ষই এইমস ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচনী-তরী পার করার চেষ্টা চালায়। শেষমেশ ২০১৪-তে কল্যাণীতে এইমস তৈরির জমি দেয় তৎকালীন তৃণমূল সরকার। রায়গঞ্জ থেকে এইমস সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। উত্তরবঙ্গবাসীর ক্ষোভের সূত্রপাত তখন থেকেই। যার বহিঃপ্রকাশ এর পরবর্তী প্রত্যেকটি নির্বাচনে দেখতে পাওয়া গিয়েছে।

    গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে রায়গঞ্জে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গে আর একটি এইমস-এর ধাঁচের হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। এই কেন্দ্র থেকে সাংসদ হওয়ার পরে বিজেপির কার্তিকচন্দ্র পাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাজ্জার কাছে রায়গঞ্জে এইমস তৈরির জন্য একাধিকবার দরবারও করেছেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও বিজেপির তরফে এইমস-প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এবার ক্ষমতায় এসেই মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় উত্তরবঙ্গবাসীর আশাপুরণ হতে চলেছে। স্বাভাবিক ভাবেই এইমস নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী রায়গঞ্জ। ইতিমধ্যেই শহর থেকে দাবি উঠতে শুরু করেছে, পুরোনো নির্ধারিত জায়গাতেই হোক হাসপাতাল।

    শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসক শান্তনু দাস বলছেন, 'খুবই ভালো খবর। আমাদের দাবি রায়গঞ্জেই এইমস তৈরি হোক। কারণ রায়গঞ্জের নাম সবার আগে ছিল।' জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তুষার গুহ বলেন, 'প্রিয়দাই এই স্বপ্নটা দেখিয়েছিলেন। এখানে এইমস তৈরি হলে অবশ্যই স্বাগত জানাব।' তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালের কথায়, 'জেলাবাসী হিসেবে আমরা চাইব যে রায়গঞ্জেই তৈরি হোক।' বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ বলেন, 'রায়গঞ্জে এইমস-এর ধাঁচে হাসপাতাল তৈরি হওয়া নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী।' এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই ফেসবুকে 'রায়গঞ্জ এইমস ডিমান্ড ফোরাম' নামে গ্রুপ তৈরি করে দাবি তুলতে শুরু করেছেন শহরবাসী।

    অন্যদিকে, এ দিন রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ বলেছেন, 'কোচবিহারে এইমস এর ধাঁচের হাসপাতাল তৈরি হতে পারে। সেটা চেষ্টা করা হচ্ছে মাথাভাঙায় করার।' তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পরেই শুধু রায়গঞ্জ নয়, এবার এইমস-এর দাবিদার হিসেবে উঠে আসছে কোচবিহার জেলাও। জেলায় এমনিতে এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সবাইকে ছুটতে হয় কলকাতায় কিংবা দক্ষিণ ভারতে। এই পরিস্থিতিতে এইমস-এর মতো হাসপাতাল তৈরি হলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন। এইমস-এর দাবিদার উত্তরবঙ্গের অঘোষিত রাজধানী শহর শিলিগুড়িও। প্রত্যেকদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ আসেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবেও শিলিগুড়ির গুরুত্ব অপরিসীম। আইএমএ-র শিলিগুড়ির সহ-সভাপতি শঙ্খ সেন বলেন, 'উত্তরবঙ্গে এইমস হওয়াটা খুব জরুরি। নির্দিষ্ট জায়গার নাম বলতে হলে আমি শিলিগুড়ির জন্যই সওয়াল করব। কেন না, শিলিগুড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভালো। পাহাড় এবং সিকিমের বাসিন্দারাও উপকৃত হবে। তবে যেখানেই হোক, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্বে জড়াতে চাইছেন না উত্তরের বড় শহরগুলির বিশিষ্টজনেরা। উত্তরবঙ্গে এমন অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরি হলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন, এই বিষয়টিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের কাছে।

    (তথ্য সহায়তা: নীলাঞ্জন দাস, চাঁদকুমার বড়াল এবং সঞ্জয় চক্রবর্তী)

  • Link to this news (এই সময়)