• প্রশাসনিক সমন্বয়ে জোর, বর্ষার আগে নিকাশি খতিয়ে দেখছেন বিজেপি বিধায়করা
    এই সময় | ২৪ মে ২০২৬
  • এই সময়, হাওড়া: হাওড়া ও বালি পুরসভা এলাকায় বর্ষাকালীন জল জমার সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত বৃহস্পতিবার হাওড়া নিউ কালেক্টরেট ভবনে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, অবিলম্বে জল নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্রুত পানীয় জলের বন্দোবস্ত নিশ্চিত করতে হবে। সেই নির্দেশের পরে শনিবার সকাল থেকেই মাঠে নেমে পড়লেন হাওড়া সদরের তিন বিজেপি বিধায়ক, বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং, উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই এবং শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।

    এ দিন তাঁরা হাওড়া ও বালি পুরসভা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি কেন্দ্র, পাম্পিং স্টেশন এবং খাল পরিদর্শন করেন। লিলুয়ার রানি ঝিল, পচা খাল-সহ একাধিক জলনিকাশি প্রকল্প ঘুরে দেখেন বিধায়করা। কোথায় কোথায় নিকাশি নালা বুজে রয়েছে, কোন এলাকায় জল বেরনোর পথ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে এবং কী ভাবে বর্ষার আগেই পলি তুলে জলনিকাশি স্বাভাবিক করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হয়।

    এই পরিদর্শনে তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া পুরসভার আধিকারিক, কেএমডিএ এবং সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। বিভিন্ন এলাকায় পাম্পিং স্টেশনের কার্যকারিতা, নর্দমা পরিষ্কারের কাজ এবং খাল সংস্কারের বর্তমান অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়। বিধায়করা বেশ কয়েকটি জায়গায় সরেজমিনে দাঁড়িয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

    প্রতি বছর বর্ষা নামলেই হাওড়া ও বালি পুরসভা এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান জল দাঁড়িয়ে থাকার অভিযোগ ওঠে। জল জমার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যেমন সমস্যা হয়, তেমনই নোংরা জল জমে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকিও তৈরি হয়। বহু এলাকায় বাড়িঘরে জল ঢুকে পড়ে, নষ্ট হয় আসবাবপত্র ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন বাসিন্দারা।

    এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব রেল ও দক্ষিণ–পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার, জেলাশাসক, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব খলিল আহমেদ এবং জেলার চার বিজেপি বিধায়ক। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির মাধ্যমে পুরসভা, সেচ দপ্তর, রেল এবং অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় রেখে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি, বিজেপি বিধায়কদেরও এই কাজে সক্রিয় ভাবে যুক্ত থাকতে বলা হয়েছে।

    শনিবারের পরিদর্শনের পরে বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিকাশি নালা সংস্কারের কোনও সঠিক কাজ হয়নি। ফলে, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে, বর্ষা এলেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এ বার সেই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য পরিকল্পিত ভাবে কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, এ বার কোমরসমান জমা জল অন্তত গোড়ালি পর্যন্ত নামিয়ে আনা।’

    তিনি আরও জানান, বহু নর্দমা ও খালের উপরে বেআইনি নির্মাণ হয়ে যাওয়ায়, স্বাভাবিক জলনিকাশি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সেই সমস্ত বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার কাজও করা হবে। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের মধ্যে হাওড়া ও বালির জলনিকাশি পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ শুরু করেছি। কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা সরেজমিনে দেখা হচ্ছে। কী ভাবে দ্রুত নোংরা জল নামানো যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একইসঙ্গে তিনি জানান, শুধু নিকাশি নয়, পরিস্রুত পানীয় জল মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও দ্রুত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও প্রশাসনিক সমন্বয়ের উপরে জোর দিয়ে বলেন, ‘বর্ষার আগেই যতটা সম্ভব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা চলছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা একযোগে কাজ করবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

  • Link to this news (এই সময়)