• প্যারাসুটে নামা 'সেনাপতি' অভিষেককে আক্রমণ শুভেন্দুর
    আজকাল | ২৪ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফলতার ফল বিফলে! তবে কেবল তা তৃণমূলের জন্যই। কারণ এই ফলেই ২০২৭ থেকে বাংলা বিধানসভায় ২০৮ হবে বিজেপি। অন্যদিকে বামেরা যে তাদের হারানো জমি ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছে ঘাস ফুল শিবিরের ভরাডুবির পর, ফলতা প্রমাণ করছে তা, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। সুতরাং বাম-বিজেপি, দু'দলের জন্যই ফলতার ফল 'প্লাস' পয়েন্ট। একদিকে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ১৯ রাউন্ডেই একলাখি টার্গেট পেরিয়ে গিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী। আর শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত সেকন্ড বয় হয়ে রইলেন বাম প্রার্থী।  

    কিন্তু তৃণমূলের জন্য? তৃণমূল ১ বাড়তে পারত। তার বদলে প্রার্থীর ভোটের আগেই রনে ভঙ্গ দেয়। তৃণমূলের 'হাইকম্যান্ড' কেউ প্রার্থীর হয়ে প্রচারে ও পথ মাড়াননি। তারপরেও, আশা ছিল। কর্মী-সমর্থকদের ভোটের উপর। আশা ছিল 'ডায়মন্ড হারবার মডেল'-এর উপর। কিন্তু 'ডায়মন্ড হারবার মডেল'-কে এক পুননির্বাচন স্রেফ 'মিথ' বলে প্রমাণ করে দিল। না রইল প্রার্থী, না রইল প্রচার আর না রইল ভোট। এক বারের হারেই, পরিণতি এরকম হতে পারে, বহু রাজনীতিবিদ মে মাসের শুরুতেও ভাবেননি এমনটা। একই সঙ্গে ফলতা রি-পোল প্রমাণ করে দিল, তৃণমুলে যাওয়া এক সময়ের বাম ভোট, ধীরে ধীরে ফলতার মাঠের পথ ধরে ফিরছে লাল পতাকার দিকেই। 

    এই পরিস্থিতিতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা পোস্ট দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কী লিখেছেন তিনি? লিখেছেন- "কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল পরিণত হলো ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে !!!

    সর্বপ্রথমে আমি ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী শ্রী দেবাংশু পাণ্ডাকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে বিধানসভায় পাঠানোর জন্য ফলতার জনতা-জনার্দন গণদেবতাকে নত মস্তকে প্রণাম জানাই। ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ, বিজেপির প্রার্থী কে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম, জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ।

    একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুঠ, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল।

    প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনো অপরাধ নেই যা সংগঠিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কোনো কসুর করেনি এই ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’। ফলস্বরূপ, বিগত নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করে এই বিধানসভা ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল। ১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখন আসল বাস্তব প্রকাশিত হলো।

    এ তো সবে শুরু, প্রত্যাখ্যানের দীর্ঘ যাত্রা এবার অতিক্রম করতে হবে। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে ‘নোটা’-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ‘নোটা’-র কাছেও পরাজিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী..."
  • Link to this news (আজকাল)