• তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটায় চলছে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ মে ২০২৬
  • অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্দেশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি কলকাতাতেও বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু করেছে পুরসভা। রবিবার সকালে তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করে কলকাতা পুরসভা। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    পুর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙা হওয়া তিনটি নির্মাণের সঙ্গেই স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। বেলেঘাটার একটি নির্মাণের সঙ্গে তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের নাম জড়িয়েছে। অন্য দু’টি ক্ষেত্রেও স্থানীয় কাউন্সিলর ও বরো চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযুক্তেরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    অভিযোগ, পুরসভার অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছিল। কোথাও পাঁচতলা বা ছ’তলা ভবন তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও একাধিক ব্লকে নির্মাণকাজ চলছিল। এই বেআইনি অংশ ভাঙতে ব্যবহার করা হচ্ছে বুলডোজারও।

    পুরসভার বক্তব্য, বৈধ নির্মাণে কোনও হাত দেওয়া হবে না, শুধুমাত্র বেআইনি অংশই ভাঙা হবে। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারায় আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিস পাঠানো হয়েছিল। ওই ধারায় পুর কমিশনার বেআইনি নির্মাণ বন্ধ বা ভাঙার নির্দেশ দিতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালিক ব্যবস্থা না নিলে পুরসভা নিজেই ভাঙার কাজ করতে পারে।

    এদিকে কসবায় অভিযানের স্থলে পৌঁছে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে যুক্তদের পাশাপাশি দায়িত্বে গাফিলতি করা পুরকর্মী ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

    অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আমরা অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছি। এই সব নির্মাণ যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে যেমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনই দায়িত্বে থাকা পুরসভার আধিকারিক-কর্মীরাও ছাড় পাবেন না।’ অগ্নিমিত্রার নিশানায় প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, ‘এই সব অবৈধ নির্মাণ কী ভাবে তৈরি হল? পুরসভা বা আগের মন্ত্রী কি দেখেননি? সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)