সব জেলাশাসকদের নির্দেশিকা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য দফতরের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর সম্প্রতি রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। ওই নির্দেশিকায় অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের শনাক্তকরণ, আটক এবং পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত করার কথা বলা হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে।
সরকারি চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব বিদেশি নাগরিককে অবৈধভাবে দেশে বসবাসের অভিযোগে আটক করা হচ্ছে অথবা যেসব বিদেশি বন্দি বিভিন্ন জেলে সাজা শেষ করার পর মুক্তি পেলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের প্রত্যর্পণ বা দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি, তাঁদের এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমএইচএ) নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “অবৈধভাবে এই দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত যে পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সেই অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলায় আটক বিদেশি নাগরিক এবং মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।”
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি বড় ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় এই সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তারই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই পদক্ষেপ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর বা সাজা শেষ হলেও তাঁদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে। ফলে তাঁদের কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। নতুন হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, এটি মূলত আইন মেনে বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নেওয়া একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ।