• ‘ওকে ফাঁসানো হচ্ছে’, জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠতা-বেআইনিভাবে জমি কেনার অভিযোগ শুনে কাঁদলেন শানুর মা
    প্রতিদিন | ২৪ মে ২০২৬
  • পরিবর্তনের বাংলায় সামনে আসছে পূর্বতন সরকারি আধিকারিকদের একের পর এক দুর্নীতির নজির। সেই তালিকায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সি। ফলতায় যে কদিন তিনি দায়িত্বে ছিলেন, তার মধ্যেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ। এমনকী ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। এমনও অভিযোগ যে ছাব্বিশের ভোটে সরকারি স্তরে জাহাঙ্গিরকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন শানু। এনিয়ে বিতর্ক চরমে উঠতেই মুখ খুললেন শানু বক্সির মা। জলপাইগুড়ির মেটেলির ছোট্ট বাড়িতে দাঁড়িয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় তিনি বললেন, ‘‘ওকে ফাঁসানো হয়েছে। এতজন বিডিও কাজ করেছে, কাউকে নিয়ে তো অভিযোগ ওঠেনি। ও নিজেও বুঝতে পারছে না কেন এমনটা হল।”

    মেটেলির যে বাড়িতে থাকেন শানুর মা শংকরী বক্সি, তা তাঁর বাবার তৈরি। বাড়ির সামনে মুদির দোকান চালিয়ে টিনের চালের এক কামরার বাড়ি তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর তাঁরা সমস্যায় পড়েন। মেধাবী ছাত্রী হওয়ায় কোনওক্রমে পড়াশোনা সামলে ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় বসেন শানু। এলাকার কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ডব্লুবিসিএসে শানু যা নম্বর পেয়েছিলেন, সেই অনুযায়ী তাঁর বিডিও হওয়ার কথা নয় বলেও অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু কৌশলে কোনওভাবে নম্বর বাড়িয়ে শানু বিডিও পদ পান বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে জাহাঙ্গিরকে নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, তবে কি তৃণমূল নেতার প্রভাবেই পদপ্রাপ্তি? ২০১৯ সালে তিনি প্রথম ফলতা থেকেই বিডিও হিসেবে কেরিয়ার শুরু হয়। বিজেপি অবশ্য পরে অভিযোগ তোলে তৎকালীন পিএসসির এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক কৌশিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। পরে অবশ্য তিনি নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার হন।

    শানু বক্সির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ জমি দুর্নীতির। মালবাজারের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ির পাশের যে জমিটি ২০২০ সালে শানু কিনেছিলেন, তা বাজারদরের চেয়ে ঢের কমদামে কেনা হয় বলে অভিযোগ। যদিও জমির মালিক বাদল আইচ জানিয়েছেন, করোনাকালে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেই তিনি প্রায় জলের দরে জমি বিক্রি করেছিলেন, তবে শানু বক্সি নামে কাউকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।

    এই অভিযোগ প্রসঙ্গেই মেটেলির বাড়ি থেকে শানু বক্সির মা শংকরী বক্সি বলেন, “আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যে। ও অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসুক।” মেটেলির স্থানীয় বাসিন্দা হেমরাজ মিত্তালও বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হিসেবে চিনতাম শানুকে। চাকরিতে বড় পদে যাওয়ার পরে কী হয়েছে তা বলতে পারব না, তবে এত অভিযোগে আমরাও অবাক।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)