মহিলাদের অপরাধের ঘটনায় সামলানো তো দূরে থাক, বারবারই বিতর্কে জড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্ক স্ট্রিটের ‘সাজানো ঘটনা’ই হোক বা আরজি কর কাণ্ডে পর ‘নাইট শিফট’ বিতর্ক। যে রাজ্যের মহিলারা মশাল হাতে রাত জেগেছিলেন, তাঁদের সুরক্ষার আশ্বাস না দিয়ে, ‘মহিলা মুখ্যমন্ত্রী’ মমতা তাঁর নির্দেশিকায় বলেছিলেন, মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাসম্ভব নাইট ডিউটি না দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সে সব অতীত ভুলে রাজ্যে এবার মহিলাদের ‘আচ্ছে দিন’! না শুধু, বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুযোগ নয়, মহিলাদের জীবন যে এবার সত্যিই বাধাবন্ধনহীন, তা সরকার বদলের পরেই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে মহিলা নেই, এবার কেমন হবে বাংলার মহিলাদের পথচলা! কে ভাববে নিরাপত্তা নিয়ে! সন্দিগ্ধ ছিলেন অনেকেই। কিন্তু সেদিনই ধোঁয়াশা কেটেছে, যেদিন নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মহিলা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার হাতে। আর সেই দায়িত্ব পাওয়ার পরেই তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, মহিলাদের নিরাপত্তায় আর ভয় নয়, বরং এখন ‘ভরসা ইন’। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, ”আমার পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেরা তাঁরা যখন খুশি বেরোবেন, যা পোশাক পরতে ইচ্ছা করে, সেই পোশাক পরবেন, আর যখন যা খেতে ইচ্ছা করে সেই খাবার খাবেন। কেউ বলবে না আপানাকে, কী পরতে হবে, কী খেতে হবে, আর কখন আপনার বেরনো উচিত, আর কখন আপনার বেরনো উচিত নয়।” শুধু তাই নয়, মহিলাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার দায়িত্ব যে সরকারের তাও স্পষ্ট বার্তায় জানিয়ে দেন নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী।
আরজি করের মতো সরকারি হাসপাতালের ভিতরে যে রাতে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল, সেদিন রাজ্যের মহিলা নিরাপত্তা চরম ধাক্কা খায়। বাংলার মেয়েরা যখন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে, তখন নবান্নের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নাইট শিফটের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। ক্ষোভ উগরে দিয়েছিল সমাজের সব স্তরের মানুষ। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মমতার সেই বার্তার সমালোচনা করে। এমনকী দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর মমতা বলেছিলেন, “মেয়েদের রাতে কলেজের বাইরে যাওয়া উচিত নয়।” সেই বার্তা যে খুব একটা ভালোভাবে পৌঁছয়নি, তারই প্রভাব বোধ হয় পড়েছে ভোটবাক্সে। এবার তাই কাজের সময় থেকে পোশাক, সব ক্ষেত্রেই মুক্তচিন্তার পরিচয় দিচ্ছে বিজেপি।
এদিকে, ইতিমধ্যেই মহিলার সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ”মহিলাদের নিরাপত্তায় এতদিন কোনও হেল্পলাইন নম্বর ছিল না। বহুবার এই নিয়ে আমি বলেছিলাম। এবার খুব শীঘ্রই এই হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে।” শুধু তাই নয়, মহিলাদের উপর নির্যাতনের ঘটনায়, জিরো এফআইআর করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের এই মন্ত্রী।
শুধু অগ্নিমিত্রা নিজে নন, গত সরকারের আমলে মহিলাদের সঙ্গে হওয়া একের পর এক অত্যাচারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। আর তাই নারীদের উপর হওয়া অত্যাচারে গঠিত কমিশনের মাথায় আইপিএস দময়ন্তী সেনকে বসানো হয়েছে। বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যের মহিলারা যে মন খুলে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন তা একের পর এক এহেন নির্দেশিকাতেই স্পষ্ট বলে মত রাজনৈতিকমহলের।