ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে দিনভর বাইসনের তাণ্ডব। দুই বাইসনের তাণ্ডবে নাজেহাল এলাকবাসী। বাইসনকে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হলো বনকর্মীদেরও। বাইসনের হামলায় আহত তিন জন গ্রামবাসী। আহতরা হলেন গোপাল ঘোষ (৬৫), সুনীল রায় (প্রায় ৪৫) এবং জয়দীপ সরকার (প্রায় ৬)। আহতদের প্রথমে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাড়মাগুরমারি গ্রামে শনিবার ভোর থেকেই দলছুট বাইসনের তাণ্ডবে চরম আতঙ্ক ছড়ায়। জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা দু’টি বাইসন হঠাৎই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে একটি বাইসন গান্ডি এলাকায় চলে গেলেও অন্যটি ঝাড়মাগুরমারি গ্রামে ঢুকে পড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাইসন দেখতে গ্রামে ভিড় জমাতে শুরু করেন বহু মানুষ। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দু’টি বাইসন দুই দিকে ছড়িয়ে পড়ায় কার্যত হিমশিম খেতে হয় বন দপ্তরের কর্মীদের। খবর দেওয়া হয় বিন্দাগুড়ি বন্যপ্রাণী স্কোয়াড, মড়াঘাট রেঞ্জ এবং গদেয়ারকুটি বিট অফিসে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বনকর্মীরা।
প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর ঘুমপাড়ানি গুলি করে বাইসনটিকে কাবু করার চেষ্টা করা হয়। তবে গুলি লাগার পরও সেটি পুরোপুরি বেহুঁশ না হয়ে আরও উত্তেজিত হয়ে গ্রাম জুড়ে ছোটাছুটি শুরু করে। ফলে এখনও পর্যন্ত বাইসনটিকে উদ্ধার করতে পারেনি বন দপ্তর।
এ দিকে উত্তেজনার মাঝেই একটি গরুও বাইসনের উপর হামলা চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে এসএসবি জওয়ান এবং ধূপগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকায় এখনও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।