• ডায়মন্ড হারবার মডেল এখন ‘হার-বার’ মডেল, ফলতার ফল নিয়ে খোঁচা শুভেন্দুর
    এই সময় | ২৪ মে ২০২৬
  • তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবার মডেল এখন তাদের ‘হার-বার’ মডেলে পরিণত হয়েছে। ফলতায় ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যেতেই পূর্বতন শাসকদলকে খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ডায়মন্ড হারবার লোকসভার কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা কেন্দ্র এত দিন তৃণমূলের দুর্গ বলেই পরিচিত ছিল। ক্ষমতার পালাবদলের পরে পুনর্নির্বাচনে সেই দুর্গ কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোয় ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ। বিজেপির প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম। জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব।’

    ফলতায় গত লোকসভা ভোটে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটে তৃণমূল ‘লিড’ নিয়েছিল। সেখানে এ বার জাহাঙ্গির পেলেন সাড়ে ৭ হাজারের কিছু বেশি ভোট। তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। এক্স হ্যান্ডলের পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুট, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল। এ বার ১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখন আসল বাস্তব প্রকাশিত হলো। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে ‘নোটা’-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।’

    ফলতার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর তৃণমূলনেত্রী মমতা একটি ফেসবুকে লাইভ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘এটা নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। ভোট লুট হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি ভোট লুট করেছে। গোটা শাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে বিজেপি।’ মমতার বার্তা, বিরোধীরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। শীঘ্রই বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হবে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। সেই সূত্রেই তিনি জানান, আগামী জুন মাসের শুরুতেই বিরোধী জোট তৎপর হবে।

    অভিষেকও এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আজ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনা অনেক অসঙ্গতি সামনে এনে দিল। আজ দুপুর সাড়ে ৩টের মধ্যেই ২১টি রাউন্ডের গণনা শেষ হয়ে গিয়েছে। অথচ গত ৪ মে ঠিক একই সময় পর্যন্ত মাত্র ২-৪ রাউন্ডের গণনা হয়েছিল। দেশের মানুষের কাছে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত নির্বাচন কমিশনের।’ অভিষেকের অভিযোগ, গত ১০ দিনে ফলতায় এক হাজারেরও বেশি দলীয় কর্মীকে ঘরছাড়া করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কমিশন কোনও পদক্ষেপ করেনি। আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙা হয়েছে। গোটা বিধানসভা নির্বাচন নিয়েই অভিষেক বলেন, ‘যত ক্ষণ না আপস করা আধিকারিকদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এবং গণনা প্রক্রিয়ার সিসিটিভি-র নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে, তত ক্ষণ এই জনাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও তীব্র হতে থাকবে।’

  • Link to this news (এই সময়)