আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফলতায় ধরাশায়ী তৃণমূল। ফের আসন বাড়ল বিজেপির। ২০২৭ থেকে পদ্ম বাহিনীর বিধায়ক সংখ্যা হল ২০৮। ফলতায় হারের দিনই ফেসবুক লাইভে এসে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মমতা ব্যানার্জি। একইসঙ্গে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে আক্রমণ শানালেন নির্বাচন কমিশনকে। তাঁর সাফ কথা, "নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে।" ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল নেত্রী দাবি করেছিলেন যে, তাঁর দল ভোটে মানুষের রায়ে হারেনি। এখনও সেই অবস্থানে অনড় মমতা ব্যানার্জি। তাঁর দাবি, "২২০ থেকে ২৩০টা আসন পাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের, কিন্তু পাশা উল্টে দেওয়া হয়েছে।"
কী অভিযোগ মমতা ব্যানার্জির?
বিধানসভা ভোটে অভাবনীয় সাফল্য পরেয়েছে বিজেপি। রবিবার ফলতায় জিতেছে গেরুয়া প্রার্থী। এ দিনই ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, "আমার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। জেতার জায়গা হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পাশাটা উল্টে দেওয়া হয়েছে অন্তত ১৫০ সিটে। আমরা ২২০ থেকে ২৩০টা আসন পেতাম। মানুষের কোনও দোষ নেই। ইভাবে কোনও রাজ্য চলতে পারে না। অনেকে ভয় পাচ্ছেন। কেউ ভাবছেন আমার চাকরিটা কী হবে, কেউ ভাবছেন আমার ব্যবসাটা কী হবে!" তাঁর দাবি, "ইভিএমের মেশিনের রিপোর্ট চাই আমাদের। উপরওয়ালা দেখছে। আপনি বাংলাকে লুঠ করেছেন। আপনার দিল্লি চলে যাবে।"
নির্দিষ্ট শব্দমাত্রায় ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক বাজানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার নমাজ হবে ব্রিগেডে। শুভেন্দু সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এদিন মমতা বলেন, "আপনারা আজান চান না। শব্দের মাত্রা বেঁধে দিন। সবার জন্য একই নিয়ম করুন। কারও অধিকার আপনি কাড়তে পারেন না।"
ভোট পরবর্তী অস্থিরতা, বিভিন্ন স্টেশন থেকে বেআইনি হকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সরব। তিনি বলেন, "আপনারা ভোট লুঠ করেছেন। আমাদের দু থেকে আড়াই হাজার কর্মীকে গ্রেফতার করেছেন, হকারদের জীবন-জীবিকা কেড়ে নিয়েছেন। পার্টি অফিস ভেঙে দিয়েছেন।" মমতা ব্যানার্জির দাবি, "আইন সবার জন্য এক। আপনারা সত্যি জিতলে অত্যাচার করতেন না।"
পুরোহিত ও ইমামভাতা বন্ধ করেছে নয়া সরকার। মমতা সরকারের চালু করা এই ভাতা নিয়েও তোপ দেগেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, "পুরোহিত,ইমামদের সম্মানিত করার জন্য ভাতা দেওয়া হত। ওই পরিমাণ টাকায় কিছুই হয় না। কিন্তু, নির্দিষ্টধর্মের মানুষদের সচেতন করতেই ওই টাকা দেওয়া হত।'
এছাড়া, যুবভারতীতে মূর্তি ভাঙা নিয়েও এদিন মুখ খুলেছেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি সরকারের এহেন সিদ্ধান্তে মর্মাহত বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ”আমার খুব খারাপ লেগেছে, একজন আর্টিস্টকে দিয়ে করেছিলাম। লোগোটা আমি এঁকেছিলাম। ছোট ছোট ভাই-বোনেরা, স্পোর্টস লাভাররা সেখানে গিয়ে সেলফি তুলতেন। ফিফা আন্ডার ১৭ খেলা করিয়েছিল, সেই সময় ওরা ওই মুর্তির প্রশংসা করেছিল। কিন্তু সেটা ভেঙে গড়িয়ে দেওয়া হল। নিজেদের স্ট্যাচু বসাবেন বলে সেটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন?"
ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় ফলাফলের পর থেকেই দলের মধ্যে অনেকে বেসুরো। একাংশ দুষছেন অভিষেক ব্যানার্জিকে। এহেন নেতা-কর্মীদের 'বেনোজল' বলে কটাক্ষ করে ফেসবুক লাইভের শেষে মমতা ব্যানার্জি সাফ বলে দেন, "আমার অস্ত্র আমার ফেসবুক। আমি এখন কোনও মিডিয়ায় কথা বলব না। আগামিদিনে কিছু বলার থাকলে আগাম জানিয়ে ফেসবুক লাইভেই বলব।"