ফলতার ভোটগণনা শেষে নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ অভিষেকের
আজকাল | ২৫ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভা ভোটের পর ফলতার পুনর্নির্বাচনেও ভরাডুবি তৃণমূলের। রবিবারের ফলতার পুনর্নির্বাচনে ফলাফলে দেখা গেল এ বার প্রথম বা দ্বিতীয় না, একেবারে চতুর্থ স্থানে রয়েছে তৃণমূল। 'ডায়মণ্ড মন্ডেল'-এর এই ফলের পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জি। প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচনের কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নিয়ে।
রবিবার বিকেলে অভিষেক দলীয় বিবৃতিতে জানান, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় চরম অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। বেলা সাড়ে ৩টের মধ্যেই ২১ রাউন্ডের গণনা শেষ হয়ে গিয়েছে। অথচ, গত ৪ঠা মে এই সময়ে মাত্র ২ থেকে ৪ রাউন্ড ভোট গণনা হয়েছিল। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের উচিত এই অসঙ্গতির ব্যাখ্যা দিক জনগণের সামনে।
অভিষেক তাঁর বিবৃতিতে জানান, গত ১০ দিনে ফলতায় হাজারের বেশি দলীয় কর্মীকে উৎখাত করা হয়েছে। কর্মীরা তাঁদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হলেও, নির্বাচন কমিশন ক্রমাগত চোখ বন্ধ করে রেখেছে। ভোটের আগে আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কনডাক্ট জারি থাকা সত্ত্বেও ভরদুপুরে দলীয় কার্যালয়গুলোতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন কোনও পদক্ষেপ করেনি।
তাঁর অভিযোগ, এ বারের ভোটে নির্বাচন কমিশনই রাজ্যে 'এসআইআর' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয় একের পর এক নাগরিকের। যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছিল, সেই মনোজ আগরওয়ালকেই ইতিমধ্যে রাজ্যের বিজেপি সরকার মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এ দিকে, ফলতায় এখনও আদর্শ আচরণবিধি জারি রয়েছে এবং ভোট প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।
তিনি আবারও অভিযোগ করেন, গত ৪ঠা মে নির্বাচন কমিশনের মোতায়েন করা আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপি ছাড়া তৃণমূল-সহ বাকি রাজনৈতিক দলগুলির এজেন্টদের গণনা কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল। বলেন, " যতক্ষণ পর্যন্ত এই পক্ষপাতদুষ্ট আধিকারিকদের থেকে জবাবদিহি চাওয়া হচ্ছে এবং গণনা প্রক্রিয়ার একটি স্বাধীন সিসিটিভি অডিট হচ্ছে, ততক্ষণ এ বারের ভোটে রাজ্যের মানুষের রায়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাব।" এ ভাবে বেশিদিন আসল সত্যকে চেপে রাখা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক।