আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই একগুচ্ছ ঘোষণা নতুন সরকারের। প্রশাসনিক কাঠামো মজবুত করা থেকে সামাজিক কল্যাণের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা জানিয়েছে বিজেপি সরকার। নারী ক্ষমতায়ন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হতে চলেছে 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। তবে কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বা পাবেন না, তা-ও বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর।
স্বাধীনতার পর রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় বিজেপি-র সরকার। সরকার গঠনের পর ১৮ মে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই অনুমোদন পায় বহু চর্চিত 'অন্নপূর্ণা যোজনা' প্রকল্প। ওই দিনই এই প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত জানান রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তারপর অর্থ দফতরের তরফে প্রকাশ করা হয় বিজ্ঞপ্তি।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকেই চালু হবে 'অন্নপূর্ণা যোজনা'-য় আবেদনের পোর্টাল। মাসে ৩ হাজার টাকা করে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাাকাউন্টে সরাসরি এই টাকা ঢোকার কথা। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি-র মাধ্যমে ওই টাকা সরাসরি পৌঁছে যাবে। তবে এ ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু শর্ত। সব মহিলা উপভোক্তা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না। অর্থ দফতরের তরফে সে বিষয়েও বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
কারা পাবেন না 'অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?
১। যে মহিলাদের বয়স ২৫ বছরের কম অথবা ৬০ বছরের বেশি।
২। যাঁরা কোনও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা স্থায়ী চাকরিজীবী অথবা পেনশনভোগী।
৩। যাঁরা রাজ্য সরকার অনুমোদিত শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মী, পুর ও পঞ্চায়েত কর্মী।
৪। যে মহিলারা প্রতি বছর কর দেন, সেই আয়করদাতারা।
৫। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন যাঁদের মৃত, রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া, ভোটার তালিকা থেকে মুছে যাওয়া নাম মুছে মহিলা ভোটারেরাও এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। তবে যাঁরা নাম বাদ পড়ায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় এসআইআরের ট্রাইবুনালে আবেদন করছেন, তাঁদের আবেদনের ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত নতুন প্রকল্পটির সুবিধা দেওয়া হবে।
কী ভাবে 'অন্নপূর্ণা যোজনা' প্রকল্পের কাজ হবে?
আগ্রহীদের এই প্রকল্পের পোর্টালে গিয়ে আবেদন জানাতে হবে ১ জুন থেকে। গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে আবেদনপত্র খতিয়ে দেখবেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও। শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব থাকবে মহকুমাশাসক বা এসডিও-র উপর। যাচাইকরণের কাজ শেষ হলে তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন জেলাশাসক বা ডিএম।
অন্য দিকে, কলকাতার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে 'অন্নপূর্ণা যোজনা'-র আবেদনপত্র যাচাই করবেন পুর আধিকারিক। তাঁদের যাচাইকরণের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের দেবেন পুর কমিশনার। সব শেষে অনুমোদিত আবেদনপত্রগুলি পোর্টালে আপলোড করা হবে। তার পরে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা।
উল্লেখ্য, এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা সরকারের ধাঁচেই তাঁকে হারানোর কৌশল নেয় বিজেপি। ভোটের সঙ্কল্পপত্রে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয় পদ্মশিবির। তাই ক্ষমতায় এসেই শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, এও বলেন, "যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন, তাঁরা নতুন প্রকল্পের টাকা পাবেন।" তবে তার জন্য মহিলা গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বরকে সংযুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছে অর্থ দফতর। এ ছাড়া, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না-ও ঢুকতে পারে বলে জানা গিয়েছে।