• পাকিস্তানের আড়ালে নাশকতা ছড়াচ্ছে চিন? পহেলগাঁও হামলায় এনআইএ চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত
    প্রতিদিন | ২৫ মে ২০২৬
  • আমেরিকা থেকে ক্যামেরা পাঠানো হয়েছিল চিনে। সেখান থেকে ক্যামেরা পাঠিয়ে দেওয়া হয় লস্কর জঙ্গিদের হাতে। ওই মার্কিন ক্যামেরা ব্যবহার করেই পহেলগাঁওয়ে নৃশংস হামলার প্রত্যেক মুহূর্তের উপর নজর রাখছিল জঙ্গিরা। পহেলগাওঁ হামলায় বিস্ফোরক চার্জশিট পেশ করল এনআইএ। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, পহেলগাঁওয়ে হামলাকারীদের ডেরা থেকেই মিলেছে এই অত্যাধুনিক গো-প্রো ক্যামেরা। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পাকিস্তানকে ঢাল করে ভারতে নাশকতা ছড়াচ্ছে চিন?

    গতবছর এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ ভ্যালিতে নৃশংস হামলা চালায় জঙ্গিরা। ২৫ জন পর্যটককে গুলি করে খুন করা হয়। ঘটনার দায় স্বীকার করেও পরে অবস্থান বদল করে লস্করের ছায়া সংগঠন রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট। পহেলগাঁও হামলার মাসতিনেক পরে হামলাকারী জঙ্গিদের নিকেশ করা হয়। তারপর তদন্ত শুরু করে এনআইএ। তিন জঙ্গির ডেরা থেকে মেলা গো-প্রো ক্যামেরা প্রথম থেকেই উঠে আসে তদন্তে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, হামলার সময় জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরা চিনের এক ডিস্ট্রিবিউটারের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল।

    কিন্তু এবার আরও বিস্ফোরক তথ্য পেশ করল এনআইএ। চার্জশিটে তারা জানিয়েছে, জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরা আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। ওই ক্যামেরা প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এনআইএ। মার্কিন সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়, চিনের এক বিক্রেতার কাছে রপ্তানি করা হয়েছিল ওই গো-প্রো ক্যামেরা। অর্থাৎ চিন থেকেই ওই ক্যামেরা এসেছিল লস্কর জঙ্গিদের হাতে। যদিও চিনের ওই সংস্থার দাবি, ওই ক্যামেরা কাদের হাতে কী ভাবে পৌঁছেছিল, সে সম্পর্কে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। এই ক্যামেরা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একমাত্র চিন প্রশাসনই দিতে পারবে। তবে কূটনৈতিক মাধ্যম ছাড়া সেই তথ্য হাতে আসার সম্ভাবনা নেই।

    এনআইএর চার্জশিটে বলা হয়েছে, মার্কিন মুলুকে তৈরি হওয়া এই ক্যামেরা চিন ঘুরে পাক সেনার হাতে এসেছে কিনা, সেই নিয়ে তদন্ত চলছে। পাক সেনার থেকেই জঙ্গিরা ক্যামেরা পেয়েছে কিনা, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। আপাতত তদন্তকারীদের লক্ষ্য, চিন থেকে লস্কর পর্যন্ত গো-প্রোর যাত্রাপথ উদ্ঘাটন করা। পাকিস্তানের নাশকতা ছড়ানোর নেপথ্যে কি চিনেরও হাত রয়েছে? 
  • Link to this news (প্রতিদিন)