• ফরাক্কায় ভিডিও কনফারেন্সে বাতিল ভোটারদের শুনানি, ইদের দিন হাজিরার নির্দেশে বিতর্ক
    প্রতিদিন | ২৫ মে ২০২৬
  • ভোটের আগে বাংলায় হওয়া এসআইআরে একাধিক নাম বিচারাধীন অবস্থায়। যদিও ট্রাইবুনালে প্রত্যেকটি নাম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর এজন্য বিচারাধীন থাকা মানুষজনকে কলকাতার জোকায় ছুটে আসতে হচ্ছিল। এমনকী মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থেকেও বাতিল ভোটারদের ট্রাইবুনালে শুনানির জন্য জোকায় আসতে হচ্ছিল। যদিও এক্ষেত্রে স্বস্তি মিললেও অন্য জায়গায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এবার থেকে ফরাক্কা থেকে জোকায় আসতে হবে না সেখানকার মানুষকে। এই সপ্তাহ থেকেই ফরাক্কা বিডিও দপ্তরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানি শুরু হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার কুরবানির ছুটির দিনেই ছ’জন সংখ্যালঘু বাতিল ভোটারকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে দিন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে সরব হয়েছেন বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই বিষয়ে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন দুই দলের স্থানীয় নেতৃত্ব।

    ফরাক্কা বিধানসভার এসআইআর ভোটার তালিকা থেকে ৩৮২২২ জনের নাম বাদ যায়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের শুনানির জন্য এতদিন কলকাতায় জোকায় যেতে হচ্ছিল। দূরত্ব ও খরচের কারণে গরিব মানুষের ভোগান্তি হচ্ছিল।তার উপর তাদের আইনজীবীদের শরনাপন্নও হতে হচ্ছিল । প্রশাসন সূত্রে খবর, সমস্যা সমাধানে এবার ফরাক্কা বিডিও অফিসেই ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, এই সপ্তাহ থেকেই নিয়মিত শুনানি হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধা হবে।

    কিন্তু বিতর্ক বেধেছে হাজিরার দিন নিয়ে। বৃহস্পতিবার কুরবানির ইদ রয়েছে। রয়েছে সরকারি ছুটি। অথচ ওই দিনই ফরাক্কার ছ’জন সংখ্যালঘু বাতিল ভোটারকে ট্রাইবুনালে হাজির হতে বলা হয়েছে। ফরাক্কা বিধানসভার দায়িত্বে থাকা ১১ নম্বর ট্রাইবুনালে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিত চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার রকেশ শেখ, আব্দুল রশিদ, আকবর আলি মীর্জা, বিজয় মন্ডল, আলফাজ শেখ, বিমল মন্ডল, সাকিনা বিবি, তাকিউল শেখকে নোটিস পাঠিয়ে বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে তিনটের মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এহেন নোটিস পেয়ে চরম ক্ষুব্ধ তাঁরা। বাতিল ভোটার সাকিনা বিবির বক্তব্য, “কুরবানির দিন আমাদের বড় উৎসব। সেদিন শুনানি রাখা অমানবিক। আমরা কীভাবে যাব?” ট্রাইবুনালের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে ছুটির দিন শুনানি রাখা হয়েছে যাতে হাজিরা দিতে না পারে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরাও।

    সিপিএমের ফরাক্কার এরিয়া কমিটির সম্পাদক মোজাফফর হোসেনের অভিযোগ, ”বাঁতিল ভোটারদের হয়রানি করতেই এই চক্রান্ত। অবিলম্বে তারিখ বদলাতে হবে।” ফরাক্কার কংগ্রেস বিধায়ক মোতাব শেখ জানান, এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে নির্যাতন করেছিল। সেই ধারায় এখনও ট্রাইবুনালের নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হয়রানি করা হচ্ছে। ইদের দিনে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের ট্রাইবুনালে ডাকার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাছি। মুর্শিদাবাদ জেলাশাসকের কাছে এবিষয়ে অভিযোগ জানাব।

    যদিও ফরাক্কা বিডিও অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, তারিখ নির্বাচন করেছে ট্রাইবুনাল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ফরাক্কা ব্লকের নির্বাচন দপ্তরের ওসি সাগর শ্রীবাস্তব জানান, ”যে সব বাতিল ভোটার নোটিস পাবেন ট্রাইবুনালের শুনানির আগের দিন তাদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে যাবেন বিডিও দপ্তরে। এখান থেকে ট্রাইবুনালের বিচারকের কাছে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরের দিন বিডিও দপ্তর থেকে ভার্চুয়ালি ভাবে বিচারকের সামনে হাজির সওয়াল জবাব করতে পারবেন।’ এই অবস্থায় ভিডিও কনফারেন্সে শুনানিকে স্বাগত জানালেও ছুটির দিন হাজিরার নির্দেশে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
  • Link to this news (প্রতিদিন)