• আইনি জটে ‘আরশোলা পার্টি’? কোর্টের মন্তব্য নিয়ে ‘ব্যবসা’ করার গুরুতর অভিযোগ
    এই সময় | ২৫ মে ২০২৬
  • দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। একদিকে যেমন এই প্যারোডি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে দেখা যাচ্ছে বিপুল আগ্রহ, আবার একই সঙ্গে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে আরশোলারা। এ বার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ দাবি করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হলো সুপ্রিম কোর্টে।

    রবিবার (২৪ মে, ২০২৬) রাজা চৌধুরী নামে এক আইনজীবী এই মামলাটি করেছেন। তাঁর দাবি, ককরোচ জনতা পার্টি নামে এই ডিজিটাল ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণের অপব্যবহার করা হয়েছে এবং তা নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে।

    তিনি তাঁর আবেদনে বলেছেন, ‘প্রচার, বাণিজ্যিক ব্যবহার, ব্যবসায়িক লাভ এবং ডিজিটাল সংহতি সাধনের উদ্দেশ্যে আদালতের পরিভাষাগুলো ব্যবহার করে এই সত্তা ও প্রতীকী প্রচারের উত্থান সাংবিধানিক কার্যধারার এক বিপজ্জনক বাণিজ্যিকীকরণেরই ইঙ্গিতবাহী।’

    আবেদনে ফ্রাঞ্জ কাফকার ‘দ্য মেটামরফোসিস’ উপন্যাসের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, বিচারব্যবস্থা বা রাজনীতিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা ক্ষোভ ব্যক্ত করতে ‘জঙ্গলরাজ’, ‘ওয়াচডগ’ বা ‘আরশোলা’-র মতো রূপক ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তবে সেটিকে ডিজিটাল মাধ্যমে পণ্যে রূপান্তর করা আইনবিরুদ্ধ। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এটা সুস্থ সমালোচনা বা বাকস্বাধীনতার উপরে আঘাত নয়, আদালতের গরিমাকে সস্তা উপহাসে পরিণত করার সংগঠিত চেষ্টা।

    এর পাশাপাশি দেশজুড়ে ভুয়ো ডিগ্রিধারী আইনজীবীদের দৌরাত্ম্য রুখতে CBI তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ওই আইনজীবী। তিনি তাঁর আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকার, আইটি মন্ত্রক, বার কাউন্সিল এবং CBI-কে পক্ষ করেছেন।

    এই আরশোলা পার্টির সূত্রপাত গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে অন্য এক মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য থেকে। চলাকালীন। তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু তরুণ রয়েছে যাঁরা আরশোলার মতো, যাঁদের কোনও চাকরি নেই বা কোনও পেশাতেই কোনও জায়গা নেই। তাঁদের কেউ সংবাদমাধ্যমে যায়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ RTI কর্মী বা অন্য ধরনের কর্মী হয়ে সকলকে আক্রমণ করতে শুরু করে।’

    এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই পরদিনই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, সংবাদমাধ্যমের একাংশ তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে। দেশের যুবসমাজের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন ভুয়ো আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে। কিন্তু এর মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। অল্প সময়ে এই প্ল্যাটফর্ম বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

    যে মূল মামলাটির সূত্র ধরে এই এত কাণ্ড, সুপ্রিম কোর্টের সেই স্বতঃপ্রণোদিত বা Suo Motu মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা সোমবারই (২৫ মে, ২০২৬)। এই নতুন জনস্বার্থ মামলাটি সেই মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে শুনানির জন্য আসতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • Link to this news (এই সময়)