কোনও মতেই হলদিয়ার উন্নয়নকে থমকে যেতে দেওয়া হবে না। রবিবার, হলদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এই বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবার, নন্দীগ্রামে সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই হলদিয়া আসেন তিনি। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, হলদিয়া বিধানসভা বিধায়ক প্রদীপ বিজলী এবং অন্যান্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠক হয় মূলত হলদিয়াকে কেন্দ্র করেই।
এলাকার বিধায়ক জানিয়েছেন, প্রায় ২ ঘণ্টার এই বৈঠকে মূলত হলদিয়া পুরসভার নির্বাচন এবং হলদিয়ায় থমকে থাকা উন্নয়নের গতি বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত ৪ বছর ধরেই থমকে আছে হলদিয়া পুরসভার কাজ। এখন প্রশাসক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। আগামী নভেম্বর মাসে এই পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে তার আগে এলাকার বাসিন্দাদের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
হলদিয়ার বিধায়ক বলেন, ‘এলাকায় পানীয় জল, আলো, রাস্তা নিয়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সামনেই বর্ষা। তার আগে নিকাশি ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।’ এই জন্য একটি টিম গঠন করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হলদিয়ার বিধায়ক এবং পুরসভার প্রশাসক সবাইকে নিয়ে এই কাজ করবেন বলে জানানো হয়েছে। এরই সঙ্গে এলাকার নদী বাঁধগুলির কী অবস্থা এবং হাসপাতালগুলিকে কী সমস্যায় আছে তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
হলদিয়া ভবনে ওই প্রশাসনিক বৈঠকে শিল্প নিয়েও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে যাতে কোনও রকম গণ্ডগোল না হয় তা দেখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
হলদিয়ার বিধায়ক জানান, সাধারণ মানুষের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয় তা দেখার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার মূলত হলদিয়া নিয়ে আলোচনা হলেও, আগামী মাসেই পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক হবে। ওই বৈঠক হবে কোলাঘাটে বলেও জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম হলদিয়া আসেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এ দিন অনেকেই ফুল এবং উপহার নিয়ে অপেক্ষা করেন হলদিয়া ভবনের সামনে। বৈঠক শেষে তাঁদের সেই ফুল এবং উপহার গ্রহণ করেন তিনি।