• কলকাতার তিন জায়গায় ভাঙা হলো বেআইনি নির্মাণ, চলল বুলডোজ়ারও
    এই সময় | ২৫ মে ২০২৬
  • এই সময়: বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে ফের কলকাতায় চলল বুলডোজ়ার।

    রবিবার বেলেঘাটা, তিলজলা এবং কসবায় তিনটি বেআইনি নির্মাণ ভাঙল কলকাতা পুরসভা। দু’জায়গায় বুলডোজ়ার দিয়ে ভাঙা হলেও, কসবায় হাতুড়ি দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। তিন জায়গাতেই বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীদের।

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলেঘাটায় বুলডোজ়ার চলেছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজু নস্করের বেআইনি নির্মাণে। কসবায় ভাঙা হয়েছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর তৈরি বেআইনি আবাসন। তিলজলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানের ছেলে, কলকাতা পুরসভার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ফৈয়াজ আহমেদ খানের তৈরি বেআইনি নির্মাণও ভাঙা হয়েছে বুলডোজ়ার দিয়ে। কসবায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ দাঁড়িয়ে তদারকি করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। ফৈয়াজের অবশ্য বক্তব্য, ‘ওই বিল্ডিংয়ের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।’

    অগ্নিমিত্রা জানান, ছ’টি ঠিকানায় বেআইনি নির্মাণের নোটিস পাঠানো হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। তার পরেই এই অভিযান। তাঁর কথায়, ‘পুরসভায় নজরদারির দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা বিষয়টি দেখেননি, পুলিশকেও ব্যবস্থা নিতে দেওয়া হয়নি। রাজু নস্কর, সোনা পাপ্পু, ফৈয়াজ এই বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। ডেভেলপার–সহ যাঁরা অভিযুক্ত, তাঁরা প্রত্যেকে শাস্তি পাবেন। আইন মেনে কাজ হবে।’ তিনি আরও জানান, অন্যান্য বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে নোটিস পাঠানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময়ও দেওয়া হচ্ছে। কোনও অবৈধ নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। অবৈধ প্রমাণিত হলে সেই নির্মাণ ভেঙে ফেলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। রাজু নস্কর, সোনা পাপ্পু এবং ফৈয়াজের বিরুদ্ধে যে সব বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে ছিলেন রাজ্যে পালাবদলের পরেই।

    পুর কমিশনার স্মিতা বলেন, ‘এখন লাগাতার বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ চলবে। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কোনও আপস না করার নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুর কমিশনার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করছেন। সূত্রের খবর, এর জন্য গত দু’সপ্তাহ রবিবারও কাজ করতে হচ্ছে বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের।

    এ দিন বেলেঘাটা, তিলজলা এবং কসবায় নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে ঘিরে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ হয়। এই সব এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ করলে, কিছু দিন কাজ বন্ধ থাকত। তার পরে পুরোদমে কাজ শুরু করা হতো। দিন–রাত কাজ করে দ্রুত তৈরি করা হতো এই সব বেআইনি নির্মাণ।

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলেঘাটার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইস্ট কুলিয়া রোডে যে বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়, সেটির বিরুদ্ধে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং রুলসের একাধিক আইন লঙ্ঘন করে সুবিধা মতো ফ্লোর বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে, ইস্ট তপসিয়া রোডে যে বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে, সেখানেও নিয়ম না মেনে একাধিক ফ্লোর ছোট–বড় করার অভিযোগ রয়েছে। কসবার বিবি চ্যাটার্জি স্ট্রিটে নিয়ম না মেনে সরু গলির মধ্যে পাঁচতলা আবাসনটি নির্মাণ করা হয়েছে।

    পুর কমিশনার বলেন, ‘পুরসভার বিল্ডিং রুলসে কলকাতার অলিগলিতে এত বড় বাড়ি করার নিয়মই নেই। কী করে তা তৈরি হলো, সেটা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমাদের।’ এ দিন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ জানান, ‘বুলডোজ়ার দিয়ে বাড়ি ভাঙা হচ্ছে, মেয়র জানেন না। নিয়মের তোয়াক্কা না করেই, ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।’

    প্রশ্ন উঠছে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়ি ভাঙা হচ্ছে, মেয়র কি কিছুই জানেন না? মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উত্তর, ‘কোনও দিন আমায় জানিয়ে কলকাতার কোথাও বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়নি। পুর আইন বেআইনি নির্মাণ ভাঙার জন্য বিল্ডিং বিভাগকে নিজস্ব ক্ষমতা দিয়েছে। সেই অনুযায়ী বিল্ডিং বিভাগ কাজ করছে।’

  • Link to this news (এই সময়)