বীজপুরের দাপুটে যুব তৃণমূল নেতা অভিজিৎ রায় ওরফে বনিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ ছিল আগেই। অবশেষে শনিবার মন্দারমণি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আনে বীজপুর থানার পুলিশ। রবিবার ধৃতকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে যুব তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বনি পরিচিত নাম। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, অর্জুন সিংকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার পর থেকেই রাজনীতিতে উল্কার গতিতে উত্থান হয় তাঁর। সেটা ২০২৪ সাল। লোকসভা ভোটের সময়ে অর্জুনের সঙ্গে প্রকাশ্যে বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন বনি। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বীজপুরের এই যুব তৃণমূল নেতাকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, এক সময়ে কাঁচড়াপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর অনুগামীদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল বনির। পরে অবশ্য দূরত্ব তৈরি হয়। সেই সময় থেকে ধীরে ধীরে বীজপুরের তৎকালীন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেছিলেন বনি।
রাজ্য পালাবদলের পরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বীজপুর, ব্যারাকপুর, জগদ্দল, ভাটপাড়া কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। এর পরেই পুরোনো মামলার ফাইল খুলতে শুরু করে পুলিশ। বনির বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগেও নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু ফল প্রকাশের পর থেকেই বনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। আগ্নেয়াস্ত্র মামলার সূত্রেই মন্দারমণি থেকে বনিকে পাকড়াও করে পুলিশ।
এ দিন তৃণমূলের যুব নেতাকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করে পুলিশ। বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই অভিজিৎকে জেরা করতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, সরকার গঠনের পরেই সমাজবিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পর থেকেই দুর্নীতির মোকাবিলায় শুরু হয়েছে ধরপাকড়। ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বনির নামও।