‘নন্দীগ্রামকে কোনও দিন ভুলব না’, নিজের ঘরে ফিরেই বার্তা শুভেন্দুর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৫ মে ২০২৬
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পর প্রথমবার নিজের রাজনৈতিক উত্থানের কেন্দ্র নন্দীগ্রামের মাটিতে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ‘ঘরে’ ফিরেই আবেগঘন বার্তা দিলেন তিনি। স্পষ্ট জানালেন, বিধায়ক পদ ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের পাশ থেকে তিনি কোনও দিন সরে যাবেন না।
প্রসঙ্গত, রবিবার তাঁর এই সফর ঘিরে সকাল থেকেই নন্দীগ্রামে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সভাস্থলে ভিড় জমান। মুখ্যমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকেন বহু সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সফর ছিল না, বরং নিজের পুরনো রাজনৈতিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী বার্তা দেওয়ারও মঞ্চ ছিল।
এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস তৈরি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে নিজের পুরনো কেন্দ্র নন্দীগ্রামের জয়, অন্যদিকে কলকাতার ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজ্যের ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছনোর ফলে রাজনৈতিক জীবনে একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনে শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। আর সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই এলাকায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল।
স্থানীয় মানুষের একাংশের আশঙ্কা ছিল, শুভেন্দু সরাসরি বিধায়ক না থাকলে নন্দীগ্রামের উন্নয়ন থমকে যেতে পারে। রবিবারের সভা থেকে সেই সংশয় দূর করারই চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনে একটি আসন ছেড়েছি। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কোনও দিন শেষ হবে না। আপনাদের শুভেন্দু আপনাদের কাছেই আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৩ সাল থেকে এই মাটির মানুষের সঙ্গে আমি লড়াই করেছি। আন্দোলনের দিন থেকে আজ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আমাকে আগলে রেখেছে। তাই এই মাটির টান কোনও দিন ভোলার নয়।’ সভামঞ্চে শুভেন্দুর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে নন্দীগ্রামের আন্দোলনের প্রসঙ্গও।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই আন্দোলনের আবেগকেই আবার সামনে এনে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি আরও শক্ত করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তাও ছিল কড়া। সভাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক কড়াকড়ির মাঝেও সাধারণ মানুষের উৎসাহে কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি। বিভিন্ন জায়গায় শুভেন্দুকে ফুলের মালা, দলীয় পতাকা এবং স্লোগানে স্বাগত জানানো হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দুর এই নন্দীগ্রাম সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ নন্দীগ্রাম শুধু তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের জায়গা নয়, বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের অন্যতম প্রতীকও বটে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
বিশেষ করে ভবানীপুরে জয়ের পরও নন্দীগ্রামের প্রতি তাঁর আবেগ যে এতটুকু কমেনি, রবিবারের বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক দায়িত্ব যতই বাড়ুক, নন্দীগ্রামই যে তাঁর রাজনৈতিক শক্তির মূল কেন্দ্র, তা ফের বুঝিয়ে দিলেন তিনি।