মুক্তির অপেক্ষায় বিক্রম চট্টোপাধ্যায়-এর দু’টি ভিন্ন স্বাদের প্রজেক্ট ‘বাবা’ এবং ‘তারকাটা’। নতুন ছবি এবং ওয়েব সিরিজের নেপথ্যের গল্প একান্ত আড্ডায় ভাগ করে নিলেন অভিনেতা।
পর পর নতুন প্রজেক্ট আসছে, টেনশন হচ্ছে? যেকোনো নতুন ছবি মুক্তির আগে উত্তেজনা, নার্ভাসনেস, আশা, সব মিলিয়েই একটা অনুভূতি কাজ করে। ‘তারকাটা’ আর ‘বাবা’ দু’টো সম্পূর্ণ আলাদা ঘরানার প্রজেক্ট। দর্শক কীভাবে নেবেন, সেটার অপেক্ষায় আছি। ‘তারকাটা’-তে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রথমবার প্রযোজনা করলাম। সিরিজটা জিফাইভ-এ মুক্তি পাবে।
প্রশ্ন : এই দুটো প্রজেক্ট করতে গিয়ে নিজের বাবার কথা মনে পড়েছিল?
বিক্রম : আমাদের বাঙালি পরিবারে বাবা-ছেলের মধ্যে একটা ইমোশনাল দূরত্ব অনেক সময় থেকেই যায়। বাবাকে জড়িয়ে ধরে ‘আই লাভ ইউ’ বলা আমরা শিখিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সেই দূরত্ব কমে। ‘তারকাটা’-য় আমার যে লুক, সেটা অনেকটাই আমার বাবার তরুণ বয়স থেকে অনুপ্রাণিত। তাঁর হাঁটা, কথা বলা, পোশাক, সবকিছু মাথায় রেখেই চরিত্রটা তৈরি করেছি। এটা আমার নিজের মতো করে বাবাকে ট্রিবিউট। আমরা মাতৃদিবস যেভাবে উদযাপন করি, পিতৃদিবস সেভাবে করি না। তাই ‘বাবা’ ছবিটা বিশ্বের প্রতিটা বাবা-কে আমি উৎসর্গ করতে চাই।
প্রশ্ন : আপনি বাংলার বাইরে কাজ করতে আগ্রহী?
বিক্রম : যিশুদা (সেনগুপ্ত), শাশ্বতদা (চট্টোপাধ্যায়), বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়)-সহ অনেকেই কাজ করছেন। তবে আমি ‘বলিউড’ বা ‘টলিউড’ শব্দে বিশ্বাস করি না। ভাষার ভিত্তিতে দুটো ইন্ডাস্ট্রি আলাদা। অন্য ভাষায় কাজ করতে আপত্তি নেই, কিন্তু মুম্বইতে শুধু বড়ো ব্যানারের জন্য কাজ করতে চাই না। চরিত্রটা আমার কেরিয়ারের জন্য কতটা জরুরি, সেটা দেখি। তবে কলকাতায় যেরকম কাজ করছি, সেগুলো নিয়ে আমি সত্যিই খুব খুশি। ১২ বছর অপেক্ষার পর বাংলা সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। এখন প্রযোজনাও করছি।
প্রশ্ন : বলিউড থেকে অফার আসে?
বিক্রম : সত্যি বলতে এখনও বাংলা সিনেমা বা বাংলা ওটিটির সেই জাতীয় প্রভাব নেই। যেটা দক্ষিণের অভিনেতাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। বাংলার নায়ক-নায়িকাদের নিয়ে কোনো উত্তেজনা আমি অন্তত মুম্বইতে কখনো অনুভব করিনি। তাই বারবার অডিশন, লুক টেস্ট দিতে হয়।
প্রশ্ন : টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে এত বিতর্ক। আপনি কী বলবেন?
বিক্রম : আমরা ভয়ে থাকতাম যে, পান থেকে চুন খসলে কাকে ‘ব্যান’ করে দেওয়া হবে। কাউকে ব্যান করে দেওয়া বা শ্যুটিং বন্ধ করে দেওয়া কোনো সুস্থ ইন্ডাস্ট্রির লক্ষণ নয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় প্রযোজকের। আমি নিজে ব্যান হইনি, কিন্তু আশপাশে অনেককে হতে দেখেছি। কোনো নিয়ম যদি গোটা ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি করে, সেটা সমর্থন করা যায় না।