এই সময়: কী ভাবে রকেট তৈরি করা যেতে পারে এবং তাতে কী ভাবে বিস্ফোরক বোঝাই করে বিস্ফোরণ ঘটানো যায়, তা শিখতে এআই প্ল্যাটফর্ম চ্যাটজিপিটি এবং ইউটিউবের সাহায্য নিয়েছিল 'ডক্টর্স মডিউল'। শুধু তা-ই নয়, কাশ্মীরের অনন্তনাগের কাজ়িগুন্দের জঙ্গলে ইম্প্রোভাইজ়ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইডি) এবং রকেট নিয়ে এক প্রস্ত এক্সপেরিমেন্টও করা হয়েছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে জসির বিলাল ওয়ানি নামে এক ধৃতের নাম রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, জসিরের নেতৃত্বেই এই পুরো কর্মকাণ্ড হয়েছে। সূত্রের খবর, চার্জশিটে এনআইএ উল্লেখ করেছে, 'যে পর্যায়ের এক্সপেরিমেন্ট হয়েছিল, তা ল্যাবরেটরি পর্যায়ের সমতুল্য।'
জসির ছিল 'আল কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট'-এর (একিউআইএস) ছায়া সংগঠন আনসার গাজ়ওয়াত-উল-হিন্দের সদস্য। হরিয়ানার ফরিদাবাদের 'আল ফালহা ইউনিভার্সিটি'তে 'ডক্টর্স মডিউল' যে ঘাঁটি গেড়েছিল, সেখানেও ডেরা ছিল জসিরের। দিল্লিতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ যে জঙ্গি ঘটিয়েছিল, সেই উমর নবির সঙ্গে জসিরের পরিচয় করায় আর এক ধৃত আদিল আহমেদ রাদার।
গোয়েন্দাদের বক্তব্য, জসিরকে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক জোগাড় করে দিয়েছিল আদিল আর কাজ়িগুন্দের জঙ্গলে এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছিল নবি। কিন্তু কী ভাবে বিস্ফোরক-বোঝাই রকেট তৈরি করতে হয়, চ্যাটজিপিটি এবং ইউটিউবে সে সম্পর্কে তথ্যতালাশ করেছিল জসিরই। তদন্তকারীদের আরও দাবি, জসিরের ক্ষমতা দেখে তাকে দু'টি ড্রোন কিনে দিয়েছিল উমর নবি। বলা হয়েছিল সেগুলির ফ্লাইং রেঞ্জ এবং পে-লোড (ওজন বহনের ক্ষমতা) বাড়াতে। লক্ষ্য ছিল, জসির তার কাজে সফল হলে ড্রোনে বিস্ফোরক পাঠিয়ে কাশ্মীরে সেনার বিভিন্ন ইনস্টলেশনে হামলা চালানো।
এ ছাড়া অনন্তনাগের মাট্টামের কাছে সিলিন্ডারে আইইডি ঠেসে বিস্ফোরণের পরীক্ষা চালিয়েছিল উমর নবি। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, তার সঙ্গে সেখানে ছিল জসির, মুজ়াম্মিল এবং আদিল। জেরায় ধৃতদের দেওয়া লোকেশনে গিয়ে সেই এক্সপেরিমেন্টের প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।
সূত্রের খবর, বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্র দিয়েই সে কী ভাবে রকেট তৈরি এবং তাকে বিস্ফোরক বহনে সক্ষম করে তুলতে পারে, তার নমুনা সে বম্ব ডিটেকশন এবং ডিসপোজ়াল এক্সপার্ট টিমের সামনে হাতেকলমে দেখিয়েছে জসির। ডিসেম্বর ২০২৩ এবং জানুয়ারি ২০২৪-এর মধ্যে একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জসির একাধিক জিনিস আনিয়েছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। এ জন্য টাকার জোগান দিয়েছিল উমর নবি। এই জিনিসপত্রগুলি অ্যাসেম্বল করে, তাকে বিস্ফোরকে পরিণত করে নবির হাতে তুলে দিয়েছিল জসির। সেই বিস্ফোরক নিয়েই সম্ভবত নবি দিল্লি গিয়েছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। জসির এবং নবি মিলে একাধিক বিস্ফোরক পরীক্ষা করেছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (টিএটিপি) দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।