• ‘লাইনে আছেন?’ ট্রাম্পের প্রস্তাবে থ পশ্চিম এশিয়ার তাবড় দেশ, শান্তি চুক্তির আড়ালে বড় খেলা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের
    এই সময় | ২৫ মে ২০২৬
  • শুধু শান্তি চুক্তি নয়। কূটনীতির দাবা খেলায় একটা বাড়তি মন্ত্রী নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশেষে সেটাই সামনে আনলেন। তার নাম আব্রাহাম অ্যাকর্ডস। ট্রাম্প চান, আরও বেশি দেশ ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দিক। যোগ দিক আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে। তাঁর প্রস্তাব শুনে থ হয়ে গিয়েছেন পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ।

    গোটা পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক কাঠামোকে নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই লক্ষ্যেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডন এবং বাহরিন-সহ একাধিক আরব ও মুসলিম দেশগুলির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি চান ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে মুসলিম দেশগুলি ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুক। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিয়ে নেতানিয়াহুর দেশকে স্বীকৃতি দিক।

    ট্রাম্পের কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা। বিষয়টা যেন কারওরই ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কথা শুনে সবাই চুপ করে যান। ফোনের অপর প্রান্তে তখন শুধুই নীরবতা। এক আমেরিকান শীর্ষ কর্তার দাবি, পরিস্থিতি হালকা করতে মজার ছলে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা লাইনে আছেন তো?’

    ইজ়রায়েলের সঙ্গে আরব বিশ্বের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ২০২০ সালে তৈরি হয়েছিল ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’। ইজ়রায়েলকে শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়াই নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের পথ খুলে দেওয়াও ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বাহরিন চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরে তাতে যোগ দেয় মরক্কো এবং সুদান। কিন্তু সৌদি আরবের নেতৃত্বে পশ্চিম এশিয়ার বাকি দেশ বেঁকে বসে।

    ট্রাম্পের সামনে এখন সৌদিই বড় বাধা। এক সময়ে অতীতের সমস্ত বিবাদ মিটিয়ে ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন। কিন্তু গাজ়ার যুদ্ধ সেই পথকে জটিল করে তুলেছে। সৌদি স্পষ্ট জানিয়েছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র তৈরি হলে তবেই ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু নেতানিয়াহুরা সেই দাবি মানতে নারাজ। ইরানও ইজ়রায়েলের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি নয়। তবে ট্রাম্প একটা ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে আরও দেশ যোগ দিলে পশ্চিম এশিয়াই শক্তিশালী হবে। কে জানে হয়তো ইরানও একদিন রাজি হয়ে গেল।’

    ট্রাম্প যখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে সরব হচ্ছেন, তখন ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, চুক্তির পরে হরমুজ় প্রণালী খুলে দিতে রাজি হয়েছে ইরান। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডারও সরিয়ে ফেলবে তারা। কিন্তু বিদেশে বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের একটা অংশ আমেরিকাকে এখনই ছাড়তে হবে বলে দাবি করেছে তেহরান। এখানেই গোল বেঁধেছে। আমেরিকা চায় চুক্তির পরে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। কিন্তু ইরান চায়, আগে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হোক, কিছু সম্পদ ছাড়ুক আমেরিকা, তার পরে তারা চুক্তিতে সই করবে। সব মিলিয়ে চুক্তির আশা ক্রমশ ম্লান হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

  • Link to this news (এই সময়)