এই সময়: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ১৫ দিনের বেশি কেটে গিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরাজয়ের ধাক্কা সামলে এখনও নিজেদের ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি তৃণমূল। উল্টে দলে ফাটলের ইঙ্গিত পাচ্ছেন অনেকে।
বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতির দাবিতে তৃণমূলের তরফে যে বিক্ষোভগুলি গত ক’দিনে হয়েছে, সেখানেও দলীয় বিধায়কদের ঐক্যবদ্ধ চেহারা দেখা যায়নি। তার মধ্যে দলের কিছু নেতা–নেত্রীর মন্তব্যও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে তৃণমূলের। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন বিজেপির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন সংগঠিত করতে। আর সেই পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করতে জুনের প্রথম সপ্তাহেই ইন্ডিয়া শিবিরের বৈঠক চান মমতা।
রবিবার দুপুরে ফেসবুক লাইভ করে নিজেই সে কথা জানিয়েছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই বৈঠকের বার্তা দিয়ে মমতা ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘ইন্ডিয়া শিবির একসঙ্গে বসার চেষ্টা করছি জুনের প্রথম সপ্তাহে। আরও যে বিজেপি বিরোধী দলগুলি আছে তাদের সঙ্গেও কথা বলব। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নেওয়া হবে। বিজেপির মুখোশ খোলার জন্য যতদূর যাওয়ার ততদূর যাব।’ তবে ওই বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সন্দেহ উসকে দিয়েছে বিজেপি। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘ইন্ডি–জোটের প্রধান দল কংগ্রেস। তারাই তো এখন তৃণমূল ভাঙাতে চাইছে। শনিবার কলকাতায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাই তো বলেছেন, আমাদের দরজা খোলা আছে। যে কোনও দলের বর্তমান, প্রাক্তন বিধায়করা আসতে পারেন। স্পষ্ট তৃণমূল নেতাদের বার্তা দিচ্ছে কংগ্রেস।’ তাঁর সংযোজন, ‘এই কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক করে মমতার লাভ কী হবে! হয়তো দশ জন মিলে দিল্লিতে বৈঠক করতে গেলেন। ফিরলেন একাই। বাকিরা হয়তো সবাই দিল্লিতেই দলবদল করে নেবেন।’
মমতা অবশ্য মনে করছেন, তৃণমূলের এই ‘খারাপ সময়’ যাঁরা দল ছাড়ার তোড়জোড় করছেন, তাঁরা চলে গেলেই ভালো। এ প্রসঙ্গে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘যাঁরা বেনোজলে ভেসে গিয়েছেন, তাঁদের বেনোজলে ভেসে যেতে দিন। এঁরা চলে গেলে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। বিজেপি–ই এঁদের টার্গেট করে তৃণমূলে ঢুকিয়েছিল। আবার তাঁরা আসল জায়গায় ফিরে যাচ্ছেন।’