• চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ মসৃণ গতিতে
    এই সময় | ২৫ মে ২০২৬
  • এই সময়: কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ। কিন্তু ইএম বাইপাসে গাড়ির বিপুল চাপের জন্য কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের কাজ শুরু করতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়েছিল। তবে গত দেড় বছর ধরে রাজ্য সরকার সহযোগিতা না–করায় যে কাজ থমকে ছিল, সেই কাজের সেকেন্ড ফেজ়–এ মাত্র এক ঘণ্টা দেরি কিছুই নয় রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)–এর ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে। চিংড়িঘাটা মোড়ে অরেঞ্জ লাইনের কাজ দু’দফায় শেষ করা হবে, এমনটাই পরিকল্পনা ছিল আরভিএনএল–এর। সেই কাজ সম্পন্ন হলো নির্বিঘ্নেই।

    ফেজ় ওয়ান অর্থাৎ প্রথম দফার কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ১৫ মে রাত ৮টা থেকে ১৮ মে সকাল ৮টা— এই ৬০ ঘণ্টার সময়সীমাকে। তখন মেট্রোর পিলার নম্বর ৩১৭ ও ৩১৮–র মধ্যে ২৮ মিটার দীর্ঘ একটি ভায়াডাক্ট বসানো হয়েছিল। ওই ভায়াডাক্ট তৈরি হয়েছিল কংক্রিটের তৈরি ১০টি অংশ দিয়ে। ওই কাজের জন্য ইএম বাইপাসের উল্টোডাঙায় যাওয়ার লেনটিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছিল।

    তার এক সপ্তাহ পরে শুক্রবার, ২২ মে রাত ৮টা থেকে আজ, সোমবার ২৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৬০ ঘণ্টার সময়সীমায় পিলার নম্বর ৩১৮ ও ৩১৯–এর মধ্যে একটি ৩৪ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ সেরে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে ফেজ়–টু শুরু করেছিল আরভিএনএল। দু’দফায় ইএম বাইপাসে মোট ১২০ ঘণ্টার ট্র্যাফিক ব্লক নিয়ে পিলার নম্বর ৩১৭ থেকে ৩১৯ পর্যন্ত অংশে মোট ৬২ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্টের কাজ আরভিএনএল সেরে ফেলেছে। এই অংশের কাজের জন্য ইএম বাইপাসের ‘ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক’ বা পূর্বমুখী অংশে ট্র্যাফিক ব্লক নেওয়া হয়। চিংড়িঘাটা মোড় সংলগ্ন অঞ্চলে অরেঞ্জ লাইনের মোট ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকেছিল। দুই উইকএন্ডে ৬২ মিটারের কাজ শেষ করে ফেলার পরে আরভিএনএল জানিয়েছে, বাকি অংশের কাজের জন্য কোনও ট্র্যাফিক ব্লকের প্রয়োজন হবে না।

    তবে চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের পূর্ব দিকের কয়েকটি স্তম্ভের মধ্যে কংক্রিট ডেক যখন বসানো হবে, সেই সময়ে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য আরভিএনএল নতুন একটি রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করছে। উপযুক্ত জায়গা বাছার জন্য কলকাতা পুলিশ এবং আরভিএনএল যৌথ ভাবে একটি পরিদর্শনও ইতিমধ্যেই সেরে ফেলেছে। চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে গার্ডার বসানোর কাজ শেষ হওয়ার পরে ৫০০ টনের লঞ্চার মেশিনটি পর পর পিলারগুলোকে পার করে ৩২৯ নম্বর পিলার পর্যন্ত পৌঁছবে। এ ভাবেই চিংড়িঘাটা ক্রসিং ও নিক্কো পার্কের মধ্যে গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে।

    সল্টলেক বাইপাসের ধার বরাবর যে খালটি এগিয়েছে, তার পাশ দিয়েই ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন রাস্তা তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। যেখানে চিংড়িঘাটা উড়ালপুল নীচে নেমে এসেছে, সেখানে ৩২৬ থেকে ৩২৯ নম্বর পিলারের মধ্যে কংক্রিট গার্ডার বসানোর সময়ে এই রাস্তা ব্যবহার করা হবে। নতুন রাস্তা তৈরির কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে বলে সূত্রের খবর। তবে সল্টলেক বাইপাসে যান চলাচলের পরিবর্তিত ব্যবস্থা চালু হতে মাস দুয়েক লেগে যাবে।

  • Link to this news (এই সময়)