• ১ জুন থেকে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিচয়পত্র মাস্ট, নির্দেশিকা স্বাস্থ্য দপ্তরের
    এই সময় | ২৫ মে ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে কর্মরত সব স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য পৃথক পৃথক রঙের সরকারি পরিচয়পত্র চালুর পথে এগোল স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্যভবনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ১ জুন থেকে চিকিৎসক থেকে নার্স, প্যারা-মেডিক্যাল কর্মী, প্রশাসনিক কর্মী এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য পৃথক পরিচয়পত্র চালু করা হবে। ১৫ মে এসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনার মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার নিরাপত্তা, দায়বদ্ধতা ও কর্মীদের দ্রুত শনাক্তকরণের যে প্রসঙ্গ উঠেছিল, তারই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এই উদ্যোগ।

    স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালগুলিতে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং কর্মীদের পরিচয় যাচাই নিয়ে সমস্যার অভিযোগ উঠে এসেছে বারে বারেই। অনেক ক্ষেত্রেই কোন ব্যক্তি ঠিক কোন ভূমিকায়, তা দ্রুত বোঝা সম্ভব হয় না। নতুন ব্যবস্থায় পৃথক রঙের আই-কার্ডের মাধ্যমে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, এসএসকেএম, আরজি কর, এনআরএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ-সহ প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতার সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এই প্রকল্প কার্যকর করা হবে। প্রতিটি ভবনের জন্য একজন করে ‘নোডাল পার্সন’ নিয়োগ করার কথা জানানো য়েছে, যিনি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং সমন্বয়ের কাজ দেখবেন।

    এ ছাড়া দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ, নির্দিষ্ট অফিস ডেস্ক, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ২৫ মে থেকে আই–কার্ড রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। ২৮ মে–র মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে আলাদা রঙের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, কর্মীরা নির্দিষ্ট লিঙ্কের মাধ্যমে নিজেদের ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে পারবেন, যা সরাসরি আই-কার্ড তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে। পরে তৈরি হওয়া পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট নোডাল অফিসারের মাধ্যমে বণ্টন করা হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু পরিচয় নিশ্চিত করার জন্যই নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কর্মী চিহ্নিত করা, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং হাসপাতালের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)