• শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন, পরিযায়ীর দেহ বাড়ির দাওয়ায় ফেলে রেখে পালাল অ্যাম্বুল্যান্স
    এই সময় | ২৫ মে ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: তখন শনিবার মাঝরাত। গ্রাম এলাকায় অত রাতে গাড়ির আনাগোনা থাকে না। আচমকাই গাড়ির আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় রুকসানা বিবি-র। স্বামী এখানে থাকেন না। দিল্লিতে কারখানায় কাজ করেন। শ্বশুর-শাশুড়ি, সন্তান নিয়ে রুকসানার পরিবার। সঙ্গে ভাসুররাও থাকেন। গ্রামের নাম রামশিমুল। রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েত। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা, মালদা।

    ঘুম ঘুম চোখে রুকসানা দাওয়ায় এসে দেখেন, ধোঁয়া উড়িয়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্স চলে যাচ্ছে। আর আধো-আঁধারে দেখেন, তাঁদেরই উঠোনে একটা কফিন নামানো। ছ্যাঁৎ করে ওঠে রুকসানার বুক। চিৎকারে ডেকে তোলেন সবাইকে। বাকিরা বাইরে এসে কফিন খুলে দেখেন সেখানে শায়িত উজ্জ্বল শেখ (২৪)-এর দেহ। স্বামীর দেহ দেখে আছড়ে পড়েন রুকসানা। কোনওমতে বাকিদের জানান, একটা অ্যাম্বুল্যান্স এসে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছে এই কফিন।

    ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। এক, খালি চোখে উজ্জ্বলের শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন দেখা গিয়েছে। দুই, মাঝে ভোট দিতে বাড়িতে এসে মাত্র ১০ দিন আগে দিল্লি চলে যান। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনেক টাকা পাওনা ছিল তাঁর। প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় মারা গেলেন উজ্জ্বল? তিনি কি দিল্লি গিয়েছিলেন? যদি সেখানেই মারা যান, তা হলে কে বা কারা তাঁর দেহ নিয়ে এল গ্রামে? কী ভাবে তাঁর দেহ আনা হলো? বিমানে, নাকি টানা গাড়িতে? নাকি দিল্লি নয়, আশপাশে কোথাও মারা গিয়েছেন উজ্জ্বল? যাঁরা তাঁর দেহ নামিয়ে গেল তাঁরা নির্দিষ্ট ভাবে উজ্জ্বলের বাড়ি কী করে চিনলেন? তবে কি তাঁরা ঘনিষ্ঠ কেউ?

    প্রথামিক ভাবে মনে করা হচ্ছে খুন করা হয়েছে উজ্জ্বলকে। থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন রুকসানা। ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁর দেহ। উজ্জ্বলের দাদা শহিদুল শেখ বলেন, 'ভাইয়ের গলায়, বুক ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাতে কালশিটে দাগও বোঝা যাচ্ছে।' পুলিশ মনে করছে, রহস্যের জট কাটাতে ওই অ্যাম্বুল্যান্স চালককে ধরা খুবই প্রয়োজন। রবিবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অ্যাম্বুল্যান্সটির নম্বর চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

    পরিবার জানিয়েছে, দিল্লির একটি প্লাস্টিকের কারখানায় কাজ করতেন উজ্জ্বল। রুকসানা বলেন, 'আমার স্বামীর মৃতদেহ হঠাৎ করে বাড়ির সামনে কে বা কারা কফিনবন্দি অবস্থায় ফেলে পালিয়ে গেল, কিছুই জানতে পারলাম না। গত বুধবার থেকে ওঁর মোবাইল সুইচড অফ ছিল। তার আগে বলেছিল, কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে গোলমাল চলছে। আমাদের ধারণা, ওঁকে খুন করা হয়েছে।' শহিদুল বলছেন, 'মাঝরাতে যখন ভাইয়ের দেহ ফেলে রেখে অ্যাম্বুল্যান্স পালিয়ে যায়, তখন আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। অন্ধকারে গাড়ির নম্বর ঠিকমতো বুঝতে পারিনি।' তাঁর অভিযোগ, কারখানা থেকে সেই টাকা আদায়ের জন্যই ১০ দিন আগে দিল্লি গিয়েছিলেন উজ্জ্বল। হয়তো টাকা না দিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে তাঁর ভাইকে। রবিবার মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে পুলিশ তদন্তে এলে গ্রামবাসীরা দিল্লির কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)