এবার জট কর্মদিবস নিয়ে, ডবল ইঞ্জিন বাংলাতেও ঝুলে প্রাপ্য ৩ হাজার কোটি
বর্তমান | ২৫ মে ২০২৬
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: চার বছরেও সিদ্ধান্ত হল না। রাজনৈতিক কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে থাকাকালীন। আর ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও। তাই ১০০ দিনের কাজে খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবে বকেয়া যে ৩,০৮২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা রাজধানীর রাজকোষে পড়ে রয়েছে, তা আদৌ বাংলার মানুষকে দেওয়া হবে কি না, সংশয় তৈরি হয়েছে সেখানেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও কাজ শুরু করতে পারেনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কারণ, কেন্দ্রের কাছে পাঠায়নি লেবার বাজেট। না পূর্বতন তৃণমূল সরকার, না বর্তমান বিজেপি সরকার। এরই মধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে নতুন আইন ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ’। সংক্ষেপে ভিবি-জিরাম-জি। সেখানে প্রকল্পের মোট খরচের ৪০ শতাংশ দিতে হবে রাজ্যকে। ৬০ শতাংশ দেবে কেন্দ্র। ভিবি-জিরাম-জি প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গ কত টাকা দেবে, তাও এখনও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রককে জানায়নি সরকার। ফলে গ্রামে গরিবদের কর্মসংস্থান প্রকল্প রয়েছে অনিশ্চিত অবস্থাতেই।
দুর্নীতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে বন্ধ ১০০ দিনের কাজ। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বকেয়া ৩,০৮২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। তার মধ্যে ১,৪৫৭ কোটি ২২ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক। ১,৬০৭ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা সরঞ্জাম এবং ১৭ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা প্রশাসনিক কাজকর্ম বাবদ। গরিবদের প্রাপ্য বকেয়া নিয়ে সংসদ থেকে সড়ক উত্তাল করেছিল জোড়াফুল শিবির। কিন্তু কাজ হয়নি। প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট, পরে দেশের শীর্ষ আদালতেও মোদি সরকার বাংলায় ১০০ দিনের কাজ বন্ধ রাখার পক্ষে সওয়াল করেছিল। কিন্তু টিকতে পারেনি। গত বছর ২৭ অক্টোবর কেন্দ্রের আরজি পত্রপাঠ খারিজ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপরও কাজ শুরু হয়নি। ডবল ইঞ্জিন আসার পরও না। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব পর্যায়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘বকেয়া তিন হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনও হিসাব-নিকেশ চলছে। কবে হবে বলা যাচ্ছে না। আর আদালতের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার লেবার বাজেট পাঠায়নি। পাঠালেই মনরেগার কাজ শুরু হয়ে যাবে। মনরেগার পর জুলাই থেকে হবে ভিবি-জিরাম-জি।’ মনরেগার কাজ জুন মাস পর্যন্ত মসৃণভাবে চালু রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার গোটা দেশের জন্য ৫৪ কোটি শ্রমদিবসের পাশাপাশি ২৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা বরাদ্দও করেছে। প্রশাসনিক ঢিলেমিতেই থমকে আছে বাংলার কাজ।
নতুন আইনে রাজ্যকে দিতে হবে মোট খরচের ৪০ শতাংশ। মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, জুলাই থেকে ভিবি-জিরাম-জি কার্যকর করতে উত্তরপ্রদেশ ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বিহার ৭ হাজার কোটি। কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক ৬ হাজার কোটি। পাঞ্জাব দেড় হাজার কোটি টাকা। মোদি-শাহের রাজ্য গুজরাত স্রেফ এক হাজার কোটি টাকা। যদিও মোদি সরকারের আনা নতুন আইনে বছরে ১২৫ দিন কাজের ‘গ্যারান্টি’র কথা বলা হলেও আদতে তা হবে না। ১০০ দিনের প্রকল্পেই বছরে গড়ে ৫২ দিন কাজ পেয়েছে গরিবরা। তাই ১২৫ দিন যে আদতে স্রেফ খাতায়-কলমে রয়ে যাবে, বলাই বাহুল্য।