• রাজ্যে পালাবদলের জের! শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের কাজ থমকে
    বর্তমান | ২৫ মে ২০২৬
  • সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: মহাকাল মন্দির নির্মাণ থমকে। রাজনৈতিক পালাবদলের পরই শিলিগুড়িতে সরকার অনুমোদিত ওই মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দেয় রাজ্য সরকার। এখন পর্যন্ত নতুন সরকার বিষয়টি নিয়ে নতুন কোনো নির্দেশিকা দেয়নি। তবে বিজেপি নেতারা অবশ্য মন্দিরটি গড়ার পক্ষে সওয়াল করছেন। 

    চার মাস আগে শিলিগুড়ি শহরের কাছে মাটিগাড়ায় ওই মন্দিরের শিলান্যাস করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। স্থানীয় বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, পর্যটন শিল্প ও মন্দিরের বিপক্ষে নই। আমরা চাই, মন্দিরটি সম্পূর্ণ হোক। শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে দল ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব। 

    মাটিগাড়ার সিটি সেন্টারের সামনেই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রেল লাইন।  পাশেই চামটা নদী। কয়েক মাস আগে এখানেই আইটি পার্কের পাশে বিশাল জমিতে মহাকাল মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে মাটি ফেলে জমি সংস্কার করা হচ্ছিল। রবিবার দুপুরে ওই জমিতে গিয়ে দেখা যায়, নীল টিন দিয়ে জমিটি ঘেরা। দু’টি গেট বন্ধ। ঘেরা দেওয়া অংশে দু’টি ডাম্পার পার্কিং করা। দুই থেকে তিনজন শ্রমিক জমিতে ঘোরাঘুরি করছেন। ভিতরে ঢুকতে গেলে বাধা দেন নিরাপত্তারক্ষী। তিনি জানান, এখন মন্দিরের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। নির্মাণস্থলে প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। 

    ভোটের আগে বিগত তৃণমূল সরকারের শিলান্যাস করা মেগা প্রকল্পগুলির মধ্যে মহাকাল মন্দির একটি। ধর্ম নির্ভর পর্যটন শিল্পের প্রসারেই এটি গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সেই সময় গড়া হয় একটি ট্রাস্টি বোর্ড। তাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব, জেলাশাসক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক, বিভিন্ন মন্দির, মসজিদ, চার্চের প্রতিনিধি, সমাজসেবীদের রাখা হয়। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হয়। ৯ মে ব্রিগেডে শপথ নেন বিজেপি শাসিত প্রথম রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর কিছুদিনের মধ্যে বর্তমান রাজ্য সরকার ভেঙে দেয় বিগত সরকারের অনুমোদিত বিভিন্ন বোর্ড। সেই তালিকায় মহাকাল মন্দিরের বোর্ডও রয়েছে বলে খবর। 

    বর্তমানে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ থমকে। নির্মাণ স্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে এখন রাজ্য সরকার যা নির্দেশ দেবে, সেই মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

    প্রসঙ্গত, ১৬ জানুয়ারি প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়। মন্দিরের জন্য প্রায় ১৭.৪১ একর জমি চিহ্নিত হয়েছে। এখানে ২১৬ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট  ব্রোঞ্জের মহাকাল মূর্তি, ১২টি জ্যোর্তির লিঙ্গ, রুদ্রকুণ্ড, অমৃতকুণ্ড, মন্দিরের চার কোণে চার দেবদেবীর মূর্তি, ভক্তদের বিশ্রামকক্ষ, থাকার ঘর, মন্দির প্রদক্ষিণ করিডর প্রভৃতি করার কথা। মন্দির শেষ করার টার্গেট আড়াই বছর। এখন কি হয় সেটাই দেখার। 
  • Link to this news (বর্তমান)