সংবাদদাতা, মানিকচক ও পুরাতন মালদহ: মালদহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় কালবৈশাখীতে বিপর্যস্ত বাসিন্দারা। ভূতনির অশোকনগরে চরম ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৫টি পরিবার। প্রবল ঝড়ে ঘরের চাল উড়ে গিয়ে পড়ল গাছের মাথায়। শিশুদের নিয়ে চৌকির নীচে ঢুকে প্রাণে বাঁচলেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। ইদুজ্জোহার আগে ঝড়ে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিন্তায় পড়েছে ওই পরিবারগুলি। তাদের সঙ্গে রবিবার দেখা করে সিপিএম নেতৃত্ব।
শনিবার রাতে কয়েক মিনিটের কালবৈশাখীতে মালদহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম মানিকচক ব্লকের ভূতনির অশোকনগর কলোনি। এই গ্রামেই বসবাস করেন শাজাহান শেখ, ফারুক শেখ, আনারুল শেখ, জিয়াউল হকেরা। শনিবার রাতে হঠাৎ ঝড় আসে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় সবকিছু। কারও বাড়ির চাল উড়ে পড়ল গাছের মাথায়, কয়েকজনের আবার কয়েকশো মিটার দূরে গিয়ে পড়েছে। প্রায় ১৫টি বাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাড়িতে থাকা খাদ্যসামগ্রী থেকে পোশাক, বইপত্র বৃষ্টির জলে ভিজে গিয়েছে। বাড়ির চাল উড়ে যাওয়ায় অনেকে আশ্রয়হীন। এবিষয়ে স্থানীয় গৃহবধূ মমতাজ খাতুন বলেন, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের চাল দুমড়ে মুচড়ে উড়ে গিয়ে গাছের উপর পড়ে।
খবর পেয়ে এদিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন মালদহ জেলার বামনেতা দেবজ্যোতি সিনহা। গ্রাম থেকেই মানিকচকের বিডিও এবং জেলাশাসককে বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হলেও ব্লক প্রশাসন বিষয়টি জানে না। কোনো জনপ্রতিনিধি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেননি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। বলেন, ব্লক প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেশরপুর বাঁধে থাকা বন্যা দুর্গত পরিবারগুলিকেও সাহায্য করা হবে।
এদিকে, শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত পুরাতন মালদহ শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সারদা কলোনিতে ঘনঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজে নাজেহাল হলেন বাসিন্দারা।
লো ভোল্টেজের কারণে ফ্যান ব্যবহার করতে না পারায় ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা হয়। অনেকে গভীর রাতে জরুরি নম্বরে ফোন করে সমস্যার কথা জানান। তবুও পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি বলে দাবি। রবিবার দুপুরের পর পরিস্থিতি বদলায়।
ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসে অভিযোগ জমা দেওয়া হবে। পুরনো জাতীয় সড়কের পাশে পুরাতন মালদহের মঙ্গলবাড়িতে ওই ওয়ার্ডে দু’হাজারের বেশি পরিবারের বসবাস। শনিবার রাতে প্রবল ঝড়বৃষ্টি থামলে পুরসভার সিংহভাগ ওয়ার্ডে বিদ্যুত্ পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল বলে দাবি। তবে, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রাতে বিদ্যুৎ চলে যায় । ভোররাতের আগে বিদ্যুৎ এলেও লো ভোল্টেজ ছিল। ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমিত ঘোষ বলেন, বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের অনেক বার ফোন করে সমস্যার কথা বলা হয়েছে। তাঁরা দ্রুত না আসায় অনেক ভোগান্তি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির রিজিওনাল ম্যানেজার সৌমেন দাস বলেন, ওই ওয়ার্ড থেকে কেউ এখনও অভিযোগ করেননি। খতিয়ে দেখা হবে। মানিকচকে ঝড়ে উড়ে গিয়েছে বাড়ির চাল।-নিজস্ব চিত্র