• গ্রেপ্তার ‘বালি সম্রাট’ তোলপাড় গলসি, অবৈধ খাদান নিয়ন্ত্রণ করে বৈভবের শিখরে
    বর্তমান | ২৫ মে ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন গলসির ‘বালি সম্রাট’ জাহির আব্বাস মণ্ডল ওরফে সেপাই। কয়েক দিন ধরেই পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলাচ্ছিল। রবিবার তাঁকে দুর্গাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সেপাই তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। লোয়া রামগোপালপুর পঞ্চায়েত এলাকায় তাঁর গ্যাং সক্রিয় ছিল। ঘাট থেকে বালি ভরতি ট্রাক বা ডাম্পার বেরলেই তাঁকে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ দিতে হত। তাঁর সঙ্গে বহু প্রভাবশালীর সুসম্পর্ক রয়েছে। তাঁকে জেরা করে পুলিশ সেই প্রভাবশালীর কাছে পৌঁছাতে চাইছে। তিনি মুখ খুললে অনেক দাপুটে নেতার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লোয়া রামগোপালপুর এলাকায় একাধিক বালি ঘাট রয়েছে। সেগুলি তিনিই নিয়ন্ত্রণ করতেন। কয়েক বছরের মধ্যেই নামে বেনামে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠেন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দুর্গাপুর-বর্ধমান সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সম্পত্তি ছড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া দামি গাড়ির সাওয়ারি হতেন। গুন্ডা ট্যাক্সের মোটা অঙ্কের টাকা তিনি নিজের কাছে রাখতেন। বাকি টাকা বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে পাঠাতেন। ভাগের টাকা কাদের কাছে যেত, সেটাই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, তাঁর কয়েকজন শাগরেদকেও খোঁজা হচ্ছে। 

    গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, একটি টিম তৈরি করে উনি তোলাবাজি করতেন। প্রত্যেককে পুলিশ নিশ্চয়ই গ্রেপ্তার করবে। তিনি নিজেও অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে নদের গতিপথ বদলে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে। গ্রামের উপর সারি দিয়ে অতিরিক্ত বালি ভরতি ট্রাক বা ডাম্পার যাতায়ত করত। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে গ্রামবাসীরা যাতায়াত করত। তারপরেও কেউ কিছু বলার সাহস দেখাত না। প্রতিবাদ করলেই তাঁর দলবল হাজির হত। তিনি কাদের মদতে দীর্ঘদিন ধরেই এই কারবার চালিয়েছিলেন, সেটাও তদন্ত হওয়া দরকার। ওই তৃণমূল নেতা কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন। 

    স্থানীয়রাও বলছেন, সেপাইয়ের ভয়ে এলাকার কারও মুখ খোলার সাহস ছিল না। তৃণমূলের প্রভাবশালীদের সঙ্গে তাঁকে দেখা যেত। দামোদরে একাধিক অবৈধ বালির ঘাট তাঁর মদতেই তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, আমাদের দল কখনই অবৈধ কাজে মদত দিত না। কেউ ব্যক্তিগতভাবে কিছু করে থাকলে সেই দায় তাঁর। তবে, অনেক সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গলসির বাসিন্দারা বলছেন, সেপাই উধাও হওয়ার পর থেকেই অবৈধ কারবার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন রাস্তায় ভালভাবেই যাতায়াত করা যায়। সরকারেরও রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে না।
  • Link to this news (বর্তমান)