প্রচুর ফলন, ভাইরাসের হানায় আকারে ছোটো হিমসাগর পচছে মাঠে, মাথায় হাত আম চাষিদের
বর্তমান | ২৫ মে ২০২৬
সুখেন্দু পাল, পূর্বস্থলী: আমের ফলনে এবার অনুকূল আবহাওয়া থাকলে মাঝেমধ্যে শিলাবৃষ্টি। তারপরও গাছ ভরতি ফলন বিভিন্ন প্রজাতির আম। কুলিন জাতের হিমসাগরও ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু, সেই হিমসাগরের সাইজ এতটাই ছোটো যে, পাইকারি বাজারে কদরই নেই! মুখ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, একটু বেশি ওজনের আম বিক্রি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু প্রত্যাশামতো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। জলের দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। কমে যাচ্ছে মুনাফার মার্জিন।
চাষিরা আক্ষেপের সঙ্গে বলছেন, এবার কেন যে এত ছোটো আকৃতির হিমসাগর হল, তা বুঝতে পারছি না। অন্যান্যবার এমন ছোট সাইজের আম ফলে ঠিকই। এবার অত্যধিক বেশি। ব্যবসায়ীরা এই আম কিনছেন না। গাছ থেকে আম পাড়ার খরচও উঠছে না। বাগানের মাটিতে পড়েই ছোটো আকৃতির আমগুলি পচে যাচ্ছে। চোখের সামনে দেখতে হচ্ছে। দেড়শ থেকে দু’শো গ্রাম ওজনের আমের দামও পাওয়া যাচ্ছে না। বাগানে ১৩ থেকে ১৪ টাকা কেজি দরে হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে।
পূর্বস্থলীর এক আম চাষি সুরজিৎ শীল বলছিলেন, ছোট আকৃতির আমের বাজারে চাহিদা নেই। দাম দিয়ে তা কেনার পর বাগান থেকে বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে পরিবহণ খরচ হবে, সেটাও উঠবে না। বাগান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মোটা টাকা খরচ হয়। গাছে স্প্রে করতে হয়। এছাড়া আম পাড়ার খরচ রয়েছে। দাম বেশি থাকলে সমস্যা হয় না। কিন্তু, এবার খরচ উঠে আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছি। আর ক’দিন পর দাম আরও কমে যাবে।’ সুরজিৎবাবুর কথায় থাবা বসিয়ে নিরঞ্জন ভট্টাচার্যও বলছিলেন, ‘এবার আবহাওয়ার কারণেই আমের আকৃতি বড় হয়নি। গাছ মুকুলে ভরে উঠেছিল। সে সময় মনে হয়েছিল এবার ব্যাপক ফলন হবে। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে সব আশা শেষ করে দিয়েছে। গাছে ভাইরাসের আক্রমণ। সেই কারণে আম বড় হয়নি।’
পূর্বস্থলীর দুটি ব্লকেই বিভিন্ন ধরণের আমগাছ রয়েছে। ঝাড়খণ্ড, বিহার সহ বিভিন্ন রাজ্যে এখানকার আম যায়। মালদহ বা মুর্শিদাবাদের আগেই পূর্বস্থলীতে আম পাড়া শুরু হয়ে যায়। মরসুমের শুরুতে তা বাজারে পাঠিয়ে চাষিরা ভালই লাভ করেন। কিন্তু, এবার তাঁদের আশা পূরণ হয়নি। গাছে আম পাড়তে পাড়তে এক শ্রমিক বলছিলেন, ‘আকৃতি ছোটো হলেও স্বাদ কমেনি। ক্রেতারা রূপের কদর বেশি দেয়। ছোটো আকৃতির আম বাজার থেকে তাঁরা ব্যাগে ভরতে চান না। সেই কারণে ব্যবসায়ীরা বাজারে নিয়ে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে চাইছেন না। বেছে বেছে আম পাড়তে হচ্ছে। খুব কম সংখ্যক ডালে আমের আকৃতি কিছুটা বড় হয়েছে। বেশিরভাগ ডালেই দেখতে পাচ্ছি ছোটো ছোটো আম। এভাবে আম পাড়তেও সমস্যা হচ্ছে। অনেক কসরতের পর আম বিক্রি না হলে কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই আমদের।’
ভাইরাসের দাপটে কি কুলিন গোত্র হারাতে বসেছে হিমসাগর? মালদহ, মুর্শিদাবাদের চাষিরা কি বলছেন, সে দিকে তাকিয়ে পূর্বস্থলী।