• ‘ফলতার মার্জিন নন্দীগ্রামেও হবে তো?’ ভোকাল টনিক শুভেন্দুর, নিজের বুথেও তৃতীয় স্থানে জাহাঙ্গির খান
    বর্তমান | ২৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম ও ফলতা: পুনর্নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগেই লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তিনিই ২৯ মে ভোটের আগে নিজেকে ‘পুষ্পা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। রবিবার যখন ফলতায় বিজেপির বিপুল জয় এসেছে, তখন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেই স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’-কে তীব্র কটাক্ষে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হুংকার, ‘এখন কোথায় গেল পুষ্পা?’ সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রেও উপনির্বাচন হবে। কারণ, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে বিধানসভা ভোটে জেতার পর নিয়ম মেনে যে কোনো একটি কেন্দ্র ছেড়ে দিতে হত শুভেন্দুকে। তিনি নন্দীগ্রাম ছেড়ে দিয়েছেন। আর সেই সূত্রেই নন্দীগ্রামের দলীয় সমর্থকদের কার্যত ভোকাল টনিক দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ফলতায় পুনর্নির্বাচনে আমরা ১ লক্ষ ৯ হাজার মার্জিনে জিতেছি। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে এই মার্জিন হবে তো?’ 

    এদিন নন্দীগ্রামে তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দিনে নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করেছিল তৃণমূল। তাই ওরা দেড় লক্ষ ভোটের লিড নিয়েছিল। এবার পুনর্নির্বাচনে ফলতার পুষ্পা উধাও। ১৫ বছর পর মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। তাতেই ফলতার বাস্তব চিত্রটা সামনে এল।’ ফলতায় চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছে তৃণমূল। এমনকি, নিজের বুথেও জিততে ব্যর্থ হয়েছেন জাহাঙ্গির খান। ফলতার শ্রীরামপুর পশ্চিম দুর্গাপুর, ১৯০ নম্বর বুথে বাড়ি তৃণমূল প্রার্থীর। জানা গিয়েছে, এই বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২১৯। তার মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৪৫২, বামদের ঝুলিতে গিয়েছে ৩২৮ এবং তৃণমূল পেয়েছে ১৩৭, কংগ্রেস পেয়েছে ৫৯টি ভোট। 

    রাজ্যে পালাবদলের ২০ দিনের মাথায় ফলতা পুনর্নির্বাচনে যে বিজেপি জিততে চলেছে, তা কার্যত নিশ্চিত ছিল। এবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের অপেক্ষা। তৃণমূল কি ঘুরে দাঁড়াবে? নাকি বিজেপির জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে? বামেরা কি ফলতার মতো অগ্রগতি ধরে রাখতে পারবে? এসব প্রশ্নই আপাতত ঘুরপাক খাচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়।
  • Link to this news (বর্তমান)