• ১৫০ আসনে জোর করে হারানো হয়েছে! না হলে তৃণমূল ২২০-২৩০ পেত: মমতা
    বর্তমান | ২৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ২০ দিনের মাথায় দলের পরাজয়ের কারণ নিয়ে পর্যালোচনা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুকে ভিডিয়ো বার্তা দিয়ে তিনি সরাসরি জানিয়ে দিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি লুট করেছে। না-হলে তৃণমূল ২২০-২৩০ আসন পেয়ে চতুর্থবারের জন্য সরকার গঠন করত। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়। তাতে দেখা গিয়েছে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। তৃণমূল জয়ী হয় ৮০টি আসনে। ঘটনাচক্রে রবিবার ফলতা বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়। 

    তাতে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ২০৮। ঠিক এদিনই সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে ভিডিয়ো বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি ভোট লুট করেছে। গণনার দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরে বিজেপি কর্মীরা ভোট লুট করেছে। 

    এরপরই মমতা দাবি করেন, ১৫০টি বিধানসভা আসনে পাশা উলটেছে। আমাদের জেতা আসন বিজেপি হারিয়ে দিয়েছে। আর ওদের হেরে যাওয়া আসন জোর-জবরদস্তি করে জিতেছে। ইভিএমে রিগিং করা হয়েছে। ডেটা হ্যাকিং করা হয়েছে। এসব না-হলে মানুষের ভোটে আমরা ২২০-২৩০টি আসন পেতাম। নির্বাচনকে বিজেপি প্রহসনে পরিণত করেছে। মানুষের জনমতকে প্রতিফলিত হতে দেয়নি।

    ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে তেমন কোনো মন্তব্য করেননি তৃণমূল নেত্রী। গত ২০ দিন তিনি ‘মুখ বুজে সহ্য’ করেছেন বলে দাবি করেন। এরপর রবিবার নিজের বক্তব্যে মমতা বিজেপি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তুমুল সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির আমলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে। মানুষকে মারধর, খুন, আত্মহত্যা, লুট, ভাঙচুর, দখল সব ঘটনা ঘটেছে। মনীষী, সমাজ সংস্কারকদের মূর্তি ভাঙা হচ্ছে। বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। চলছে হকার উচ্ছেদ। ২৫০০ তৃণমূলের পার্টি অফিস বিজেপি দখল করেছে। তৃণমূলের কাউন্সিলারদের ধরে ধরে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। 

    মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিশকে কাজে লাগিয়ে রক্ষক আজ ভক্ষক হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের পরিচালিত পুরসভাগুলিকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।মমতার অভিযোগ, তৃণমূলের লোকেদের দেখলেই ‘চোর’ স্লোগান দিচ্ছে বিজেপি! ওরা সবাই ‘বহিরাগত’। বাংলার সংস্কৃতি জানে না।

    প্রশাসনে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা আইন মেনে কাজ করুন—এই আবেদন করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি প্রশাসনের বিরোধী নই। আপনারা কিন্তু আইনের রক্ষক। আপনি আইন ভঙ্গ করলে, আপনিও আইনের মধ্যে পড়বেন। আমিও দেখব, সংবিধান বড়ো নাকি বন্দুকের নল বড়ো। বিজেপি সরকার অন্নপূর্ণ যোজনার টাকা প্রতিমাসে দিচ্ছে কি না, সেটা নজর রাখার আবেদন রাজ্যবাসীর কাছে রেখেছেন মমতা। পাশাপাশি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মূর্তি ভেঙে ফেলায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, আমার উপর রাগ বলে সেই মূর্তি ভেঙে উড়িয়ে দিল!

    তৃণমূলের আশু লক্ষ্য—ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা এবং ২০২৯ সালে কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে হটানো। মমতা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী চকোলেট ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে না দিয়ে বাচ্চাদের দিতে পারতেন। জ্বালানি বাঁচানোর কথা বলে নিজেই বিদেশে ঘুরছেন। দিল্লি চলে গেলে বিজেপি টলমল হয়ে যাবে। আমরা সেইদিনের জন্য অপেক্ষা করছি। 
  • Link to this news (বর্তমান)